পার্কিং  টাইলস কারখানায় সফল যুবক শিমুল  

চ্যানেল ৯৬বিডি.কম, ঠাকুরগাঁও : লেখাপড়া শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের মেধা ও শ্রমকে কাজে লাগিয়ে যে সাফল্যের মুখ দেখা যায় তার উদাহরণ ঠাকুরগাঁওয়ের মোস্তাফিজুর রহমান শিমুল।

উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ শুরুর মাত্র আট মাসের মধ্যেই নিজের এ সাফল্য অনেক খুশি শিমুল ও তার পরিবার। এরইমধ্যে শিমুলের তৈরি টাইলস নিজ জেলার গণ্ডি পার হয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে।

শিমুল জানান, এখন আর তিনি চাকরির পেছনে ছুটেন না। তিনি নিজেই এখন চাকরি দিচ্ছেন। তার প্রতিষ্ঠানে অনেক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হওয়াটা এখন শুধু সময়ের ব্যাপার।

ঠাকুরগাঁও শহরের শান্তিনগর এলাকায় ছোটো আকারে গড়ে উঠা শিমুলের ‘ব্লক পার্কিং টাইলসের কারখানা এখন একটি সম্ভাবনার নাম।

শিমুল জানান, ২০১১ সালে তিনি বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন। পরের তিন বছর শুধু চাকরির পেছনে ছুটেছেন। কিন্তু চাকরি না পাওয়ায় হতাশ হয়ে ২০১৬ সালে প্রবাসে পারি জমান। কাতারের গিয়ে একটি পার্কিং টাইলসের কোম্পানিতে চাকরি নেন। সেখানে তিনি প্রায় তিন বছর কাজ করেন।

তিনি বলেন, আমি ওই সময় খেয়াল করি কারখানায় ব্যবহৃত প্রধান কাঁচামালগুলো বিশেষ করে সিমেন্ট, বালু ও নুড়ি পাথর আমার নিজ এলাকায়ই পাওয়া যায়। এবং বেশ সহজলভ্য। এরপর ছোটো আকারে একটি কারখানা তৈরির চিন্তা মাথায় নিয়ে দেশে ফিরে আসি।

২০১৯ সালে দেশে ফিরে বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা পার্কিং টাইলসের কারখানাগুলো ঘুরে দেখি। বাজারে এর চাহিদা কেমন তা বুঝার চেষ্টা করি। সব কিছু দেখার পর কাতারভিত্তিক প্রযুক্তি আমার দেশের জন্য সঠিক মনে হলে আমি কারখানা দেওয়ার সিদ্ধান্তটি চুড়ান্ত করি।

শিমুল আরও বলেন, মাত্র দুই লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে ২০২১ এর ১ জানুয়ারিতে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদ শুরু করি। কাজ শুরুর পর নিজ জেলাতে ব্যাপক সাড়া পাই। আমার পণ্য আস্তে আস্তে পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও যাওয়া শুরু করে । এখন তো দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অর্ডার পাচ্ছি।

টাইলস কারখানার শ্রমিক আজম আলী বলেন, আমি আগে রিকশা চালাতাম। বেশ কষ্ট হতো। এক বন্ধুর কাছে খবর পেয়ে এই কারখানায় এসে কাজ নিয়েছি। এখন আর এতো কষ্ট নেই। হালকা কাজেই ভালো পারিশ্রমিক পাই।

শিমুল জানান, প্রথমে ১ জন শ্রমিক নিয়ে কাজ শুরু করলেও এখন তার কারখানায় ১৭ জন শ্রমিক আছে । সরকারি সহযোগীতা পেলে কারখানাটি আরও বড় করার ইচ্ছা আছে। কারখানা বড় করতে পারলে আরো ১৫০/২০০ জন লোকের কর্মসংস্থান হবে।

শিমুলকে সরকারিভাবে সহযোগীতা করে তার কাজে উৎসাহ দেওয়া উচিত বলে জানান ঠাকুরগাঁও চেম্বার অফ কমার্সের পরিচালক মামুনুর রশিদ।

তিনি জানান, শিমুলের মাধ্যমে বৃহত্তম কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ রয়েছে। তার সফলতা তরুণ উদ্যোক্তাদের আরো উৎসাহীত করবে।

ঠাকুরগাঁও বিসিক শিল্প নগরীর উপ-ব্যবস্থাপক মো. নূরেল আলম জানান, আমরা চাই ভালো ভালো উদ্যোক্তা সৃষ্টি হোক। শিমুলের উদ্যোগ বেশ সম্ভাবনাময়। তার যে কোনো সহযোগীতায় আমরা পাশে থাকবো।