যে গ্রামে ঘুম ভাঙে পাখির গানে

চ্যানেল ৯৬বিডি.কম, নওগাঁ : সবুজে ঘেরা সুন্দর গ্রাম। চারদিকে পাখের কিচির মিচির। এ যেন পাখির অঘোষিত অভয়ারণ্য। পুরো গ্রাম জুড়ে সারাবছরই দেখা মেলে হরেক রকম বক, শুমুখইল, রাতচোরা, সারস, মাছরাঙা, পানকৌড়ি ও বিভিন্ন প্রজতির ঘুঘুসহ নাম না জানা শত প্রজাতির হাজার হাজার পাখি।

স্থানীয় উদ্যোগে গ্রামটিকে ঘোষণা করা হয়েছে ‌‌`পাখি শিকার মুক্ত এলাকা’ হিসেবে।

বলছি নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার আলিদেওনা গ্রামের কথা। সেখানে পাখির মিষ্টি কলতানে প্রতিদিন ভোরবেলা ঘুম ভাঙে মানুষের।

সারাদিনই সেখানকার গাছে গাছে পাখিদের কিচির-মিচির শোনা যায়। উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে সেখানে এমন পাখিদের সমারোহ। পাশাপাশি, গ্রামবাসীও পাখিদের প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতিশীল। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে পাখিদের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল।

তাই আলিদেওনাকে আশপাশের এলাকার মানুষ চেনেন “পাখি গ্রাম” নামে। মহাদেবপুর উপজেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার পশ্চিমের এই গ্রামে পাখিদের সমারোহ রীতিমতো মনমুগ্ধকর।

প্রতিদিনই সেখানে পাখি দেখতে যান বিভিন্ন এলাকার মানুষ। বিশেষ করে প্রজনন মৌসুমে শামুকখৈল ও বক দেখতে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে আলিদেওনাতে।

গ্রামটিতে প্রবেশের সরু রাস্তার দুই ধারে গাছে গাছে লাগানো রয়েছে বিভিন্ন পাখির আদলে সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড। সেগুলোতে লেখা রয়েছে পাখি শিকার রোধে বিভিন্ন আইন ও সচেতনতামূলক উপদেশ।

যেমন- ‘‘পাখি শিকার করবেন না, পাখি মারবেন না, “পাখিরাও আমাদের মতো বাঁচতে চায়, পাখি আমাদের পরম বন্ধু, তাদের আগলে রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে” ইত্যাদি।

পাখিদের বাড়তি নিরাপত্তার জন্য একই দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষসহ, পাখিপ্রেমী, সমাজসেবী ও পরিবেশবিদরা।