কালকিনিতে বোমা বানানোর সময় বিস্ফোরণ;  উড়ে গেছে টিনের চালা

চ্যানেল ৯৬বিডি.কম, মাদারীপুর : মাদারীপুরের কালকিনিতে বোমা বানানোর সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ঘরটির বেড়া ও টিনের চালা উড়ে গেছে। এতে আহত হয়েছেন বেশ কয়েজন।

সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার সিডিখান ইউনিয়নের দক্ষিণ মাথাভাঙ্গা মোহম্মদনগর এলাকার মোনাই মোল্লার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

দুজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরতর আহত ওই দুজন হলেন, সিডিখান ইউনিয়নের মাথাভাঙ্গা এলাকার নুরাই ব্যাপারীর ছেলে ইয়ামিন ব্যাপারী (৪০) ও দক্ষিনকান্দি এলাকার মৌজালী শিকদারের ছেলে সুমন শিকদার (৩৫)।

সুমন সিডিখান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চাঁন মিয়া শিকদারের চাচাতো ভাই বলে জানা গেছে। এ ছাড়াও ইয়ামিন ব্যাপারী সিডিখান ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য শ্যামলী আক্তারের স্বামী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মোনাই মোল্লার একটি টিসসেড ঘরে বসে হাতবোমা বানানোর কাজ করছিল ইয়ামিন, সুমনসহ কয়েকজন যুবক। তাদের বানানো একটি বোমা ঘরের মধ্যে হঠাৎ বিস্ফোরণ হয়। মূহুর্তের মধ্যে ঘরটি বিধস্ত হয়। উড়ে যায় ঘরের টিনের চালা ও বেড়া। এ সময় ঘরের মধ্যে থাকা বেশ কয়েকজন আহত হন।

বিস্ফোরণের শব্দ শুনে স্থানীয়রা কালকিনি থানার পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিধস্ত ওই ঘরটি থেকে ইয়ামিন ও সুমনকে উদ্ধর করে প্রথমে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের দুইজনকেই পাঠানো হয় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

এ ব্যাপারে সিডিখান ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান চাঁন মিয়া শিকদার মুঠোফোনে বলেন, আমি ঢাকায় আছি। এলাকায় বিস্ফোরণের সংবাদ পেয়েছি। তবে কি কিভাবে এ ঘটনা ঘটলো তা আমি কিছুই জানি না।

চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাইসহ বিস্ফোরণে আপনার কয়েকজন আহতের বিষয় জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ‘সুমন বা কারা বিস্ফোরণে আহত আছে কিনা তা আমি এখনো জানি না। জেনে বিস্তারিত বলতে পারবো।

সিডিখান এলাকার স্থানীয়রা জানায়, এর আগেও একাধিকবার এই এলাকায় হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হাত বোমা বানানোর কাজ করছিল।

এ সম্পর্কে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইশতিয়াক আশফাককে একাধিকবার ফোন করলেও তারা ফোন ধরেননি। পরে মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে জেলার পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল মুঠোফোনে বলেন, ‘বোমা বিস্ফোরণের বিষয় আমরা এখনো সেভাবে কোন তথ্য পাইনি। বিস্তারিত জেনে পরে জানানো হবে।