এক মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ৩ প্রেসিডেন্ট

চ্যানেল ৯৬বিডি.কম, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আফগান শরণার্থীদের পুনর্বাসন কাজে সহায়তা দিতে একটি জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক তিন প্রেসিডেন্ট- জর্জ ডাব্লিউ বুশ, বিল ক্লিনটন ও বারাক ওবামা।

রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ওয়েলকাম ইউএস’ নামে ওই জোটের সঙ্গে সাবেক তিন রাষ্ট্রপ্রধান এবং তাদের স্ত্রীরাও কাজ করবেন বলে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

জোটের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক নেতা মঙ্গলবার এ জোটের উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন। আফগানিস্তান থেকে পালানো লাখো আফগান নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে আনার পর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বর্তমান প্রশাসন তাদের পুনর্বাসনের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে সমর্থন দিচ্ছে ‘ওয়েলকাম ইউএস’।

তালেবানের বিরুদ্ধে ২০ বছর ধরে চলা যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র এবং জোটের সেনাদের সঙ্গে কিংবা আমেরিকান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করা আফগান নাগরিকরা এখন সেদেশে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিও বুশ এবং তার স্ত্রী লরা বুশ এক বিবৃতিতে বলেন, “নিরাপদ একটি পৃথিবী গড়ার লড়াইয়ে হাজারো আফগান আমাদের সঙ্গে যুদ্ধের মাঠে দাঁড়িয়েছে এবং এখন তাদের সহায়তা দরকার। “আফগান পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে এবং তাদের নতুন জীবন গড়ার লক্ষ্যে ওয়েলকাম ইউএস এবং তাদের কাজকে সমর্থন জানাতে পেরে আমরা গর্বিত।”

রয়টার্স লিখেছেন, এ বিষয়ে জানতে সাবেক ডেমোক্রেট প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, তার স্ত্রী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিন্টন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও তার স্ত্রী মিশেল ওবামার প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করতে পারেনি তারা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতোমধ্যে ২৮০টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ওই জোটে সমর্থন দিয়েছে, যার মধ্যে মাইক্রোসফট, স্টারবাকস, সিভিএস হেলথ এবং এয়ারবিএনবির মত কোম্পানি এবং বেশ কিছু অলাভজন প্রতিষ্ঠান এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনাদের সংগঠন ও পুনর্বাসন সংস্থা রয়েছে।

এছাড়া রিপালিকান ও ডেমোক্রেট দলের বেশ কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান গভর্নর এবং মেয়র এর সঙ্গে জড়িত আছেন।

দেশটিতে অভিবাসন প্রশ্নে ‘বিভক্তি’ থাকলেও বেশ কিছু রাজ্য এবং স্থানীয় নেতা আফগান শরণার্থীদের স্বাগত জানিয়েছেন।

ঝড়ো গতিতে তালেবানের কাবুল দখলের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে লাখো মানুষকে বিমানে করে তাড়াহুড়ো করে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় কঠোর সমালোচনাও করেছেন কেউ কেউ।  প্রায় ৫০ হাজার শরণার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার চেষ্টা করছে ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন।

বাকিরা য্ক্তুরাষ্ট্রের বিমানবন্দরের কাছে প্রসেসিং সেন্টারগুলোতে অবস্থান করছে। এছাড়া বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনাগুলোতেও আরও অনেকে অপেক্ষা করছেন।