চাঁদপুরে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ

চ্যানেল ৯৬বিডি.কম, মোজাম্মেল প্রধান হাসিব : চাঁদপুর সদর হাসপাতালের নাক কান গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ও সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. আহসান উল্লাহর বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বামী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০২০ সালের ১৯ আগস্ট চাঁদপুর শহরের ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ডা. আহসান উল্লাহর কাছে চাঁদপুর পুরান বাজারের পূর্বশ্রীরামদী এলাকার মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের স্ত্রী তাহমিনা আকতারের নাকের হাড় অপারেশন করানো হয়।

অপারেশনের পর থেকে গত বছর যাবত নাক পঁচে রক্ত ও দুর্গন্ধ বের হয়। ভালোভাবে খাওয়া-দাওয়াও করতে পারতেন না তাহমিনা আক্তার। প্রচন্ড ব্যথায় মাঝে মধ্যে কাতর হয়ে যেতেন তিনি। অপারেশনের পর শহরের ঢাকা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পুনরায় ডা. আহসান উল্লাহর মাধ্যমে নাকের ময়লা ফালানো হয়।

কিন্তু সমস্যা থেকেই যায়। চাঁদপুর সদর হাসপাতালেও কয়েকবার ডা. আহসান উল্লাহর কাছ থেকে চিকিৎসা নেয়া হয়। তারপরও তাহমিনা আক্তার সুস্থ্য না হওয়ায় শহরের মিডল্যান্ড হাসপাতালে ডা. এম এ জামানের কাছে কয়েকবার চিকিৎসা নেন।

তারপরও কোনরকম উন্নতি হয়নি বরং অবনতির দিকে যাচ্ছিলো। কোনরকম উন্নতি না হওয়ায় চলতি বছরের ১৮ আগস্ট ঢাকা পিজি হাসপাতালের হেড নেক সার্জন ডা. দেলোয়ার হোসেনের কাছে ঢাকা হেলথ এন্ড হোপ হাসপাতালে প্রাইভেটভাবে চিকিৎসা নেওয়া হয়। চিকিৎসাকালীন সময়ে নাক থেকে ব্যান্ডেজের অংশবিশেষ প্রায় ৪/৫ ইঞ্চি কিছুটা শক্ত প্লাস্টিক বের করেন।

ডাক্তার দেলোয়ার হোসেন বলেন, নাকের হাড় প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত কেটে ফেলা হয়েছিল এবং নাকের হাড় ক্ষয় হয়ে গেছে। অভিযোগকারি রোগীর স্বামী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এক বছর যাবত আমার স্ত্রী এমন কঠিন পরিস্থিতি নিয়ে দিনাতিপাত করছিল। তবে এখন সে অনেকটা ভালো। পুরোপুরি সুস্থ্য নয়।

একবছর ধরে কফের সাথে রক্ত যেতো আমার স্ত্রীর। এ রকম অনভিজ্ঞ ও অগাধ বাণিজ্যিক ডাক্তারের অনতিবিলম্বে অপসারণ চাই আমি। আমার স্ত্রীর অপারেশন চার্জ, ডাক্তার ভিজিট, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ঔষধ-পত্রসহ প্রায় লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয়েছে আমার। তাই পুরোপুরি সুস্থ্য না হওয়া পর্যন্ত আমি আর্থিক ক্ষতিপূরণও দাবী করছি।

এ বিষয়ে ডা. আহসান উল্লাহর কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, আমি ১৯৯০ সাল থেকে রোগী দেখি। এ পর্যন্ত ৩০ হাজার অপারেশন ও ৭ লক্ষ রোগী দেখেছি। আমি তো আর এক দিনের ডাক্তার না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন অভিযোগকারী যা লিখছে আপনি তাই লিখে দেন। আমি এখন রোগী দেখছি বলে ফোনের লাইন কেটে দেন।