১লা সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবি

চ্যানেল ৯৬বিডি.কম, নিজস্ব প্রতিবেদক : স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামী ১লা সেপ্টেম্বর ২০২১ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন।

অন্যথায় নিজেদের দায়িত্বে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার ঘোষণা দিতে চান বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন এর মহাসচিব জি এম জাহাঙ্গীর কবরি রানা। এ বিষয়ে তিনি  প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বৃহস্পতবিার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১ টায়  জাতীয় প্রেসক্লাবের  সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে তিনি এ ঘোষণা দেন।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এল.এম কামরুজ্জামান ।

এছাড়াও বক্তব্য দেন সংগঠনের কো-চেয়ারম্যান বেলাল আহমেদ, মানববন্ধন বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক মোঃ মামুনুর রশিদ, ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ হামিদুল ইসলাম মিন্টু, সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব জয়নুল আবেদীন জয়, যুগ্ম মহাসচিব মোঃ নুরুন নবি, কে.এম তরিকুল ইসলাম, শিক্ষা সচিব মোঃ নজরুল ইসলাম, পল্লবী থানা কমিটির সাঃ সম্পাদক এস.এম সোহেল রানা, রূপনগর থানা কমিটির সাঃ সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মপুর থানা কমিটির সাঃ সম্পাদক আমিনা ইসলাম তামান্না, কামরাঙ্গীরচর থানা কমিটির সাঃ সম্পাদক মোঃ আব্দুস সালাম, গাজীপুর মহানগর কমিটির সাঃ সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন মাস্টার, শ্রীনগর থানা কমিটির সাঃ সম্পাদক মোঃ ইউসুফ আলী রানা প্রমূখ।

লিখিত বক্তব্যে জি.এম জাহাঙ্গীর কবির রানা বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে বলেন, দেশে অবৈতনিক ও সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান করে দেশকে নিরক্ষরতামুক্ত করা সরকারের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অতুলনীয় অবদান রেখে চলেছে। পিইসিই পরীক্ষায় কিন্ডারগার্টেনের ফলাফল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তুলনায় অনেক ভালো।

দেশে বিদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় এই শিক্ষাবান্ধব সরকারের যে সাফল্য ও সুনাম রয়েছে তার প্রায় অর্ধেক অবদানই কিন্ডারগার্টেন সমূহের বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাফল্যের অভিযাত্রা সেখানেই শেষ হয়নি, ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার উন্নয়নে যে কয়েকটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়সমূহে বিনামূল্যে পুস্তক সরবরাহ নিশ্চিত করণ।

সমাপনী পরীক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণের ব্যবস্থা গ্রহণ। বেসরকারি বিদ্যালয় নিবন্ধন বিধিমালা-২০১১ এর আওতায় সকল বেসরকারি  বিদ্যালয়কে নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে আসা ইত্যাদি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনি আমাদেরকে উদ্যোক্তা হতে বলেছিলেন। লেখা-পড়া করে বেকার না থেকে স্বউদ্যোগে দেশের কাজে অংশ নিতে বলেছিলেন। আমরা আপনার কথা মতো উদ্যোক্তা হয়েছি। আমরা সমাজের আরও আট লক্ষাধিক বেকার যুবকের বেকারত্ব দূর করেছি। আমরা প্রায় এক কোটি শিশুদের লেখা-পড়ার দায়িত্ব নিয়েছি।

এই এক কোটি শিশুর লেখা-পড়ার জন্য আপনার হাজার হাজার অবকাঠামোর প্রয়োজন হতো, এই আট লক্ষাধিক শিক্ষক কর্মচারির বেতন সরকারি কোষাগার থেকে দেওয়া লাগতো, এই এক কোটি শিশুকে রাজকোষ থেকে উপবৃত্তি দেওয়া লাগতো। আমরা দেশের প্রায় ৪০% শিশুকে শিক্ষাদান করেও আজ অবহেলিত। আজ আমরা বাঁচতে চাই, বাঁচার মতো বাঁচতে চাই।

এই আঠারোটি মাস ধরে আমরা মানবেতর জীবন-যাপন করছি। মাস পেরুলেই সংসার খরচ, বাড়ী ভাড়া, প্রতিষ্ঠান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, পানির বিল, পাওনাদারের চাপ ইত্যাদি দরজার সামনে এসে কড়া নাড়তে থাকে। দুমুঠো ডাল-ভাত খেয়ে জীবন ধারণ যেখানে অনিশ্চিত, সেখানে এতো এতো চাপ ধারণ করা আমাদের জন্য অসহনীয় হয়ে পড়েছে।

এসব চাপ মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে আমার সহকর্মী ভাইয়েরা কেউ কেউ আত্মহত্যার মতো জঘণ্য পথও বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। কেউ আবার বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করে দিন-মুজুর, রিক্সাচালক, শ্রমিক, রাজমিস্ত্রির যোগালী, ফুটপাতের ব্যাসায়ী, অথবা হোটেল কর্মচারীর কাজে যোগ দিয়েছেন, যা বাংলাদেশের জন্য একটি লজ্জাজনক অধ্যায়।

এসময় তিনি শিক্ষামন্ত্রী কোনো প্রকার খোঁজ নেননি বলেও অভিযোগ করেন।