সুন্দরবনে মধু আহরণ শুরু

চ্যানেল ৯৬বিডি.কম,

সাতক্ষীরা : ১ হাজার ৫০ কুইন্টাল মধু আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে সুন্দরবনে শুরু হয়েছে মধু আহরণ মৌসুম। এ উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এ বছরও মৌয়ালদের অনুমোদন দেয়া শুরু করেছে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জ কার্যালয়।

সকাল থেকে মৌয়ালরা বুড়িগোয়ালিনি ফরেস্ট ক্যাম্প থেকে পাস সংগ্রহ করে বনে প্রবেশ করেছে। প্রতি বছর এই দিনে বন বিভাগ ও বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনরে পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

তবে এবার করোনা মহামারির কারণে তা হয়নি। বন বিভাগ সূত্র জানায়, এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত সুন্দরবনে মধু আহরণের মৌসুম। এ বছর ১ হাজার ৫০ কুইন্টাল মধু এবং ৪৫০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

যদিও ২০২০ সালে সাতক্ষীরা রেঞ্জে মধু আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ৫০ কুইন্টাল, পক্ষান্তরে মধু আহৃত হয় দুই হাজার ৬ কুইন্টাল। অপরদিকে মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬৫ কুইন্টাল। মোম আহৃত হয় ৬০২ কুইন্টাল। সেবার রাজস্ব উপার্জিত হয় ১৫ লাখ চার হাজার ৮৭৫ টাকা।

মুন্সিগঞ্জ গ্রামের মৌয়াল মাসুম বিল্লাহ জানান, মৌসুমের শুরুতে খলিশা ফুলের মধু আসে। এরপর আসে গারণ ফুলের। শেষে আসে কেওড়া ও ছইলা ফুলের মধু। এই তিন প্রজাতির মধুর মধ্যে সবচেয়ে দামী হচ্ছে খলিশার মধু। কিন্তু এ বছর এ অঞ্চলে কোনো বৃষ্টি হয়নি। আর বৃষ্টি না হওয়ায় ফুল শুকিয়ে ঝরে যায়। মধুও কম জমে। তাই এ বছর মধু কম হওয়ার আশঙ্কার কথা জানালেন এই মৌয়াল।

গাবুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা মৌয়াল হুদা মালি জানান, গত বছর ২৪ হাজার টাকা মণ দরে মধু বিক্রি করেছেন। এবারের মৌসুমের প্রথম দিনেই পাস নিয়ে বনে যাচ্ছেন। গহীন বন থেকে মধু সংগ্রহ করবেন।

সাতক্ষীরা সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) এমএ হাসান বলেন, এবার সুন্দরবনে মধু আহরণের জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে মৌয়ালদের কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সংরক্ষিত অভয়ারণ্য থেকে মধু আহরণ করা যাবে না এবং কোনো মৌয়াল নিষিদ্ধ বনাঞ্চলে প্রবেশ করলে তাৎক্ষণিক তার পারমিট বাতিল করা হবে। এ ছাড়া মৌয়ালরা মৌমাছি তাড়াতে অগ্নিকু-, মশাল বা অনুরূপ কোনো দাহ্য পদার্থ এবং রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করতে পারবেন না।

তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার প্রথম দিনে ৭৫০ জন মৌয়াল পাস নিয়ে বনে গেছে। এ খাত থেকে চার লক্ষাধিক টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহ পাস দেয়া হবে। তবে এবার বৃষ্টি না হওয়ায় মধু আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক থাকবে কি-না তা আগে থেকে বলা যাচ্ছে না।