ক্ষেতের তুলনায় তরমুজের দাম বাজারে ১০গুন বেশী

চ্যানেল ৯৬বিডি.কম,

ঢাকা : তীব্র গরম এবং রমজানের কারণে মৌসুমি ফল তরমুজের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। এ সুযোগে দাম বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। শুরু করেন কেজি দরে তরমুজ বিক্রি।

খুচরা বাজারে তরমুজের কেজি ৫০-৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায় মৌসুমি এই ফল।  ক্রেতারা বলছেন, চাহিদা থাকায় সিন্ডিকেট করে তরমুজের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

কৃষকরা বলছেন, ৫০-৬০ টাকা কেজিতে বাজারে যে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে তা সর্বোচ্চ ছয়-সাত টাকা কেজি পড়েছে কৃষকের। ১০-১৫ কেজি ওজনের তরমুজের শ (১০০) আট-নয় হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন তারা। এখন সেসব তরমুজ কেজি হিসাবে ৫৫০-৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কেনা দামের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মুনাফা করছেন ব্যবসায়ী ও আড়াতদাররা।

পটুয়াখালী শহরের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন  বলেন, এ বছর তরমুজের ফলন ভালো হলেও খুচরা বাজারে দাম অনেক বেশি। বিষয়টি বুঝে আসে না আমাদের। তরমুজ কেন কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, কারা এটি শুরু করেছে; তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কৃষক পিস হিসাবে তরমুজ বিক্রি করেন। বাজারে ৫০-৬০ টাকা কেজিতে তরমুজ বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা। সাধারণ মানুষের পক্ষে তরমুজ কিনে খাওয়া সম্ভব না।শহরের নিউমার্কেট, পুরান বাজার, হেতালিয়া বাধঘাট, দুই নম্বর বাধঘাট ও নতুন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৫৫-৬০ কেজিতে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে। তবে ছোট তরমুজের পিস ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়। বড় তরমুজ কেজিতেই কিনতে হয়।

তরমুজচাষি ইমাম হোসেন বলেন, শুনেছি তরমুজ কেজিতে বিক্রি হয়। তাই বাজারে দেখতে এলাম। আমরা তো ক্ষেতে শ হিসাবে বিক্রি করেছি তরমুজ। এখন বাজারে এসে দেখি ৫৫-৬০ তরমুজের কেজি। সে হিসাবে আমরা সাত-আট টাকা কেজিতে তরমুজ বিক্রি করেছি। প্রতিবারই আমাদের ঠকান ব্যবসায়ী ও আড়াতদাররা।

শহরের নিউমার্কেট এলাকার তরমুজ বিক্রেতা কালাম বলেন, আড়ৎ থেকে শ হিসাবে তরমুজ কিনি। কিন্তু পিস হিসাবে বিক্রি করলে লাভ হয় না। কেজি দরে বিক্রি করলে লাভ হয়।

তিনি বলেন, কেজি হিসাবে আমি তো একা তরমুজ বিক্রি করি না। সবাই কেজি দরে বিক্রি করে। তাই আমিও করি। সবাই যদি পিস হিসাবে বিক্রি করে আমিও করব। এক আড়তদার বলেন, পাইকারি বাজারে তরমুজ শ হিসাবে বিক্রি হয়। এখানে কেজিতে বিক্রি হয় না। খুচরা ব্যবসায়ীরা বিক্রি করেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা।