স্কোয়াশ চাষে সফল মাগুরার জালাল

চ্যানেল ৯৬বিডি.কম,

মাগুরা : স্কোয়াশ চাষে সফল মাগুরার জালাল উদ্দিন। ২৩ শতক জমিতে স্কোয়াশ চাষে তার খরচ হয়েছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। যাবতীয় খরচ বাদে ক্ষেত থেকে লক্ষাধিক টাকার স্কোয়াশ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

২৩ শতক জমিতে কুমড়া জাতীয় সবজি স্কোয়াশ চাষ করে প্রায় ১ লাখ টাকা লাভ করতে পারবেন বলে আশা করছেন সদর উপজেলার ছোটফালিয়া গ্রামের কৃষক জালাল উদ্দিন ।

কৃষক জালাল উদ্দিন জানান, রাজবাড়ি জেলার পাংশা এলাকার ইটালি প্রবাসী মামুনুল হক নামে তার এক আত্মীয়ের কাছ থেকে এ বীজ সংগ্রহ করেছেন তিনি। এরপর গত বছর গ্রীষ্ম মৌসুমে মিষ্টি কুমড়া জাতীয় এ সবজির চাষ করেছিলেন। কিন্ত লাভবান হননি। চলতি শীত মৌসুমে চাষ করে ফলন ভালো হয়েছে।

স্কোয়াশের জীবনকাল প্রায় ৩ মাস। শীত মৌসুমে এ সবজি বপনের ৪০ দিনের মধ্যে ফল আসতে শুরু করে। পোঁকামাকড় থেকে রক্ষা পেতে জালাল উদ্দিন ক্ষেতে ব্যবহার করেছেন ফেরোমন ট্রাফ। এ কারণে কীটনাশকের ব্যবহার তেমন প্রয়োজন হয় না।

এছাড়া মাটির রসে যাতে ফুল ও ফল নষ্ট না হয় সে জন্য জমিতে বেড তৈরি করে বেডের উপর পলিথিন দেওয়া হয়েছে। সেচ ও বৃষ্টির অতিরিক্ত পানি জমে যাতে ফসলের ক্ষতি না হয় সে জন্য নালা তৈরি করা হয়েছে। এতে করে ক্ষেতে পানি জমে না। সেই সাথে ফসলের পরিচর্যা করতে সুবিধা হয়। ফলনও ভালো হয়।

জালাল উদ্দিন জানান, ২৩ শতক জমিতে গাছ রয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০টি। এটি চাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। যাবতীয় খরচ বাদে এ ক্ষেত থেকে তিনি প্রায় লক্ষাধিক টাকার স্কোয়াশ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

ইতোমধ্যে বাজারে এ সবজি বিক্রি করতে শুরু করেছেন তিনি। বর্তমানে প্রতি পিস স্কোয়াশ ২০ থেকে ২৫ টাকা বিক্রি করছেন । এ সবজি চাষে স্থানীয় কৃষি বিভাগ তাকে নানা ভাবে সহোযোগিতা করছে।

মাগুরা সদর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, স্কোয়াশ মূলত আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে চাষ হয়ে থাকে । আমাদের দেশে সাধারণত দোআঁশ মাটিতে এর ফলন ভালো হয়। স্কোয়াশ ভিটামিন “এ” ও “সি” ও আয়রনসহ বিভিন্ন পুষ্টিগুণে ভরা একটি সবজি।

এ সবজি রাতকানা রোগসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সহায়ক। মাগুরাতে কিছু কিছু এলাকায় কৃষকরা এটি চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। যে কারণে অনেক কৃষকই এ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

মাগুরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু তালহা বলেন, “চাষবাদের দিক দিয়ে স্কোয়াশ অনেকটাই নতুন ধরনের একটি সবজি। বাজারে এটির চাহিদা রয়েছে। ছোটফালিয়া গ্রামের জালাল উদ্দিন এ সবজির চাষ করে সফল হয়েছেন। তাই আগামীতে এটির চাষ আরও বাড়বে।”