অন্যরকম দৃষ্টিনন্দন শহিদ মিনার

চ্যানেল ৯৬বিডি.কম,

ঢাকা : প্রতিষ্ঠার ৪৯ বছর পর একটি দৃষ্টি নন্দন শহিদ মিনার পাচ্ছে পরিকল্পনা কমিশন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে তৈরি হতে যাওয়া এ শহিদ মিনারটি একটি ব্যতিক্রমি স্থাপনা হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শহিদ মিনারটির প্রধান মিনারের পেছনে লাল বৃত্ত এবং পেছনে লাগানো থাকবে সবুজ গাছের বেষ্টনী। এর সমন্বয়ে তৈরি হবে ‘প্রাকৃতিক জাতীয় পতাকা’।

দূর থেকে দেখলে মনে হবে সবুজের মাঝে লাল সূর্য। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের বিশেষ আগ্রহে এটি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৪ এপ্রিল শহিদ মিনারটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে পারে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, দেশ স্বাধীনের মাত্র দেড় মাসের মাথায় ১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি পরিকল্পনা কমিশন প্রতিষ্ঠা করেন বঙ্গন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বৃক্ষশোভিত মনোরম পরিবেশের কারণে পরিকল্পনা কমিশন চত্বর কর্মকর্তাদের কাছে প্রশান্তির জায়গা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

কিন্তু প্রতিষ্ঠার এতগুলো বছর পেরিয়ে গেলেও একটি শহিদ মিনার স্থাপনের উদ্যোগ নেননি কেউই। অবশেষে বর্তমান পরিকল্পনামন্ত্রী এটি স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের সমন্বয় সভায় শহিদ মিনারসহ আনুষাঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হাতে নেওয়া হয় ‘পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় কমপ্লেক্সে বিদ্যমান ভবন ও অবকাঠামো সমূহের মানোন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প।

এটি বাস্তবায়নের ব্যয় হচ্ছে ১৭ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের আওতায় তৈরি হচ্ছে শহিদ মিনারটি। পরিকল্পনা বিভাগ এবং গণপূর্ত অধিদফতর যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পরিকল্পনা কমিশন চত্বরে মন্ত্রীর অফিস কক্ষের সামনে ফাঁকা জায়গায় তৈরি হচ্ছে এটি। ১১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৬৬ ফুট প্রস্থের জায়গায় তৈরি হচ্ছে পুরো শহিদ মিনার। এটির নকশা তৈরি করেছেন স্থাপত্য অধিদফতরের নির্বাহী স্থপতি সাইতা বিনতে আলী।

কাজ ইতোমধ্যেই অনেকদূর এগিয়েছে। বেদি এবং সামনের গ্যালারির জন্য অবকাঠামো তৈরির কাজ প্রায় শেষ। প্রধান মিনারটি স্থাপন করা হয়েছে।

বাকিগুলোরও কাজ চলছে। অভ্যন্তরীণ রাস্তার কাজও প্রায় শেষ হয়েছে। উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, শহিদ মিনারে পাঁচটি মিনার থাকবে। এর মধ্যে মাঝেরটি হবে ৩৩ ফুট উঁচু। বাকিগুলো হবে ১৭ ফুট উচ্চতার।

এ প্রসঙ্গে শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত উপ-বিভাগ-৩ এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সুষমা আপ্লুত আরা ফেরদৌস বলেন, ‘দৃষ্টি নন্দন একটি শহিদ মিনার তৈরি হচ্ছে। আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছি, যাতে ১৪ এপ্রিল এটির উদ্বোধন করা সম্ভব হয়।

প্রকল্পটি মোট ১৬টি প্যাকেজে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সব প্যাকেজগুলোরই দরপত্র আহ্বান শেষ হয়েছে। কোনো কোনো প্যাকেজের কাজ ৬০-৬৬ শতাংশ শেষ হয়েছে। প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে। শেষ হবে আগামী জুন মাসে। আমরা আশা করছি নির্ধারিত মেয়াদেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে।