শীতলক্ষ্যা ডুবে যাওয়া লঞ্চ উদ্ধার, মৃত্যু বেড়ে ২৭

চ্যানেল ৯০৬বিডি.কম,

নারায়ণগঞ্জ :  শীতলক্ষ্যা নদীতে কোস্টার ট্যাংকারের ধাক্কায় অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যাওয়া  ‘সাবিত আল হাসান’ লঞ্চটি উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে উদ্ধারের পরে লঞ্চের ভেতর থেকে ২২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আর এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২৭ জনে।

নিহতরা হলেন- রুনা আক্তার (২৪), সোলেমান ব্যাপারী (৬০), বেবী বেগম (৬০), সুনিতা সাহা (৪০), পখিনা বেগম (৪৫), বিথী (১৮), অরিফ (১), প্রতিমা শর্মা (৫৩), শামসুদ্দিন (৯০), রেহেনা বেগম (৬৫), হাফিজুর রহমান (২৪), তহমিনা (২০), আব্দুল্লাহ (১), নারায়ণ দাস (৬৫), পার্বতী রানী দাস (৪৫), আজমীর (২), শাহআলম মৃধা (৫৫), মহারাণী (৩৭), আনোয়ার হোসেন (৫৫), মাকসুদা বেগম (৩০), সাউদা আক্তার লতা (১৮), আব্দুল খালেক (৭০), জিবু (১৩), খাদিজা বেগম (৫০), মোহাম্মদ নয়ন (২৯), সাদিয়া আক্তার (৭) ও অজ্ঞাত এক নারীকে জেনারেল হাসপাতাল থেকে নিয়ে যায় স্বজনরা।

এছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন- বিকাশ সাহা (২২), অনিক সাহা (১২), জাকির হোসেন (৪৫), মানসুরা (৭), তানভীর হোসেন হৃদয়, রিজভী (২০), মো. ইউসুফ কাজী, মো. সোহাগ হাওলাদার (২৩)।

এর আগে এ দিন সকাল থেকেই শীতলক্ষ্যার উভয় পাড়ে অপেক্ষমান হাজারো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। একে একে যখন লাশগুলো উদ্ধার করে পাড়ে নিয়ে আসছিলো, তখন কান্নায় ভেঙে পড়ছিলো স্বজনরা।

জেলা প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী নিখোঁজ ৩১ জনের মধ্যে ইতিমধ্যে ২৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ৪ জন নিখোঁজ রয়েছে। লাশ শনাক্ত করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, রোববার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শীতলক্ষ্যা নদীর চর সৈয়দপুর এলাকার ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে কোস্টার ট্যাংকারের ধাক্কায় অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় ‘সাবিত আল হাসান’ নামে মুন্সিগঞ্জগামী লঞ্চটি। রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ৫ জন নারীর লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারীরা।

রাতেই ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় পৌঁছলেও বৈরি আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছিলো। পরে সোমবার সকাল থেকে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লঞ্চটি উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসা হয়।

এরপর একে একে ভেতর থেকে বেরিয়ে আসতে থাকে লাশ। সেসময় স্বজনদের আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক (ঢাকা) সালাহউদ্দিন জানান, আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে আসলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে শুরুতে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হয়।

রোববার রাত থেকেই আমাদের ৩টি ডুবুরি ইউনিট কাজ করে। সোমবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ২৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে লঞ্চ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় রাতেই পৃথক দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রোববার রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ’র নির্দেশে ৭ সদস্যবিশিষ্ট ও বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেকের নির্দেশে ৪ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) খাদিজা তাহেরা ববিকে প্রধান করে ৭ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এছাড়া মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে নিহতদের দাফন কাফন ও সৎকারে জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা অনুদান প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মহোদয়।

বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের উপপরিচালক মোবারক হোসেন বলেন, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেকের নির্দেশে, বিআইডব্লিউটিএ’র পরিচালক (নৌ নিরাপত্তা) রফিকুল ইসলামকে প্রধান করে ৪ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।