সারাদেশে কালবৈশাখীতে ১১ জনের মৃত্যু

চ্যানেল ৯৬বিডি.কম,

ঢাকা :ঢাকাসহ সারাদেশে কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া সারাদেশে কালবৈশাখী ঝড়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গাইবান্ধায় ৮ জন, ফরিদপুরে ২ জন, কুষ্টিয়ায় একজনসহ মোট ১১ জন মারা গেছে রাজধানীতে চলতি মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হেনেছে। রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার পর এ ঝড় আঘাত হানে।

সরজিমনে দেখা যায়, ঝড়ের তাণ্ডবে রাজধানীর ধানমন্ডি, গুলশান, মিরপুর, মালিবাগ, বনশ্রী এলাকায় গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।এদিকে হঠাৎ ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বইমেলা।

বেশ কয়েকটি স্টল আংশিকভাবে ভেঙে পড়েছে। এসব স্টল এর মধ্যে রয়েছে বেহুলা বাংলা, বাবুই প্রকাশনি, আদিত্য অনীক প্রকাশনি। এছাড়াও বেশ কিছু স্টল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কিছু প্যাভিলিয়নের নামফলকও ভেঙে পড়েছে।

গাইবান্ধা : গাইবান্ধা সদর, পলাশবাড়ী, সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে আট জন নিহত হয়েছেন। রোববার (৪ এপ্রিল) দিনগত রাত ৯টার দিকে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ডেপুটি কালেক্টর নেজারত (এনডিসি) এসএম ফয়েজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর মধ্যে সদরের মালিবাড়ি ও বাদিয়াখালি ইউনিয়নে দুই জন, ফুলছড়িতে দুই জন, পলাশবাড়ীতে তিন জন এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এক জন। এর আগে রোববার (৪ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে গাইবান্ধা সদরসহ সাত উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যায় ঘণ্টাব্যাপী কালবৈশাখী ঝড়।

নিহতদের মধ্যে গাইবান্ধা সদর উপজেলার মালিবাড়ী ইউনিয়নের ঢনঢনিপাড়া গ্রামের মিঠু মিয়ার স্ত্রী সাহারা বেগম (৪১), পলাশবাড়ী উপজেলার ডাকেরপাড়া গ্রামের ইউনুস আলীর স্ত্রী জাহানারা বেগম (৫০), মোস্তফাপুর গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে গোফ্ফার (৪২), মনোহরপুর ইউনিয়নের কুমেদপুর গ্রামের মমতা বেগম (৫৫), সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কিশামত হলদিয়া গ্রামের সোলেমান আলীর স্ত্রী ময়না বেগম (৪০), ফুলছড়ি উপজেলার কাতলামারী গ্রামের বিটুল মিয়ার স্ত্রী শিমুলী বেগম (২৫), ফুলছড়ি উপজেলার হাফেজ উদ্দীনের নামে জানা গেছে।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আব্দুল মতিন  জানান, নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে ভেঙে পড়া গাছ অপসারণে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা কাজ করছেন।

ফরিদপুর : আলফাডাঙ্গায় কালবৈশাখী ঝড়ে গাছের ডাল পড়ে মা-মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার বানা ইউনিয়নের টাবনী ঘোষবাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- মধুখালী উপজেলার বাজিতপুর গ্রামের মো. জাহিদের স্ত্রী হালিমা (২৫) তার এক বছর চার মাস বয়সী শিশুকন্যা আফছানা।জানা গেছে, হালিমা তার শিশুকন্যা আফছানাকে নিয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলার বানা ইউনিয়নের শিরগ্রামে আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে যান। সেখান থেকে সন্ধ্যায় ভ্যানযোগে তার বাবার বাড়ি বুড়াইচ ইউনিয়নের পাকুড়িয়া রওনা দেন।

সন্ধ্যা ৭টার দিকে বানা ইউনিয়নের টাবনী ঘোষবাড়ির সামনে পৌঁছালে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। এ সময় সজনে গাছের একটি বড় ডাল তাদের ওপর ভেঙে পড়ে। এতে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই হালিমা মারা যান। মারাত্মক আহত শিশু আফছানাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাফেজা আক্তার মিলি বলেন, ঝড়ে গাছ চাপা পড়ে হালিমা মারা যান। গুরুতর আহত তার শিশুকন্যা হাসপাতালে আনার পথে মারা যায়।

কুষ্টিয়া : এদিকে কুষ্টিয়ায় কালবৈশাখী ঝড়ে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।