লকডাউন : চোখে-মুখে দুচিন্তা খেটে খাওয়া মানুষের

চ্যানেল ৯৬বিডি.কম,

ঢাকা :  করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সোমবার থেকে ফের এক সপ্তাহের জন্য লকডাউনে যাচ্ছে দেশ। ফলে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের চোখে-মুখে দুচিন্তার ছাপ। জীবন জীবিকা নিয়ে হতাশ নিম্ন আয়ের মানুষ।

বিশেষ করে শহরে বসবাসরত দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষদের মাঝে রোজগার নিয়ে চরম অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন লকডাউনের সময় বাড়লে তাদের দুর্দশা আরও বেড়ে যাবে।

এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাচ্ছেন। আবার যারা শহরে থেকে যাচ্ছেন তারাও অনিশ্চয়তায় প্রহর কাটাচ্ছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে নিম্ন আয়ের মানুষদের সাথে কথা বললে এমন হতাশার চিত্র উঠে আসে।

রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় চায়ের দোকান করেন মকবুল হোসেন। যা আয়-রোজগার হতো তাতে ভালোভাবেই চলতো তার সংসার। কিন্ত হঠাৎ লকডাউনে চরম দুচিন্তায় পড়ে যান তিনি । প্রথম লগডাউনে দুর্দশার পর পরবর্তীতে আবারও রোজগার শুরু করেন। এখন আবার অনিশ্চয়তা।

লকডাউনের কথা বললে মকবুল বলেন, ‘আগের বার কোনমতে দিন পার করছি। এবার আর উপায় নাই। তাই বিকেলে ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়ি চলে যাবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘লকডাউন বাড়লে ঢাকায় না খাইয়া থাকা লাগবো।’

মকবুল হোসেনের মতো একই অবস্থার কথা জানান রিকশা চালক সোেহল। গাইবান্ধা থেকে এসে ধানমন্ডি এলাকায় রিকশা চালান তিনি। গ্রামের বাড়িতে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে তার।

রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ঢাকা ছেড়ে দেয়ার কথা জানিয়েছেন এই রিকশা চালক।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক রবিউল ইসলাম বলেন, লকডাউনে কেনাকাটার হিড়িক পড়ায় পণের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন বিক্রেতারা। মানুষ হুজুগে অতিরিক্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য স্টক করছে। যার প্রভাবে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে।

তিনি আরো বলেন, শুধু তাই নয়, লকডাউনে দেয়া হলেও মানা হচ্ছে না কোনো স্বাস্থ্যবিধি। সবচেয়ে বেশী দুচিন্তায় আছে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। সরকারকে আরো জোরালোভাবে এ বিষয় নজর দিতে হবে।

এদিকে ঢাকাসহ সারাদেশে পরিবহণ খাতে যারা বাস, মিনিবাসের ড্রাইভার, সুপারভাইজার বা হেলপার হিসেবে কাজ করেন তারা মজুরি পান প্রতিদিনের ট্রিপ বা যাতায়তের ওপর৷

ইতিমধ্যেই যাত্রী ও যাতায়াত দুটিই কমে যাওয়ায় তাদের আয় অনেক কমে গেছে৷

দ্বিতীয় দফায় লকডাউনে গণপরিবহণ বন্ধ হয়ে গেলে মালিকরা তাদের কোনো মজুরি দেবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চিয়তা৷ এছাড়া অটোরিকশা ও রাইড-শেয়ারিং-এ যারা কাজ করেন তারাও চিন্তিত।

বিশ্বব্যাংকের হিসেবে দেশে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করেন৷ যারা দিন আনে দিন খায়৷ তার উপর রয়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা৷ করোনায় শুধু তারাই নন, যারা চাকরিজীবী নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত সবাই সংকটে আছেন৷ সেই সঙ্কট আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে দ্বিতীয় দফায় লকডাউনে ।