স্বাস্থ্য খাতে জরুরি অবস্থা

চ্যানেল ৯৬বিডি.কম,

ঢাকা : স্বাস্থ্য খাতে জরুরি অবস্থা চলছে বলে জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার বিএসএমএমইউ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয় ।

দেশে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিএসএমএমইউ এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। উপাচার্য মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, এখন স্বাস্থ্যে জরুরি অবস্থা চলছে।

শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার পর্যটন বন্ধ করলে চলবে না। কক্সবাজারসহ সারা দেশের পর্যটন বন্ধ করতে হবে। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিদিন যে সমাবেশ, মিছিল বা মানববন্ধন হয়, তা বন্ধ করতে হবে।

বর্তমান প্রেক্ষিত ও ভবিষ্যৎ করণীয়’শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সহ-উপাচার্য, একাধিক বিভাগের প্রধানসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনের পরে উপাচার্য মো. শারফুদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে। পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা অনুমানও করা যাচ্ছে না।

জরুরি পরিস্থিতিতে যেমন মানুষকে কিছু কাজে বাধ্য করা হয়, সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতিতে একইভাবে মানুষকে মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাধ্য করার উদ্যোগ নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের ১৮ দফা নির্দেশনার যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা হয়। উপাচার্য বলেন, জনস্বাস্থ্যবিষয়ক কোনো উদ্যোগ নেয়ার আগে সরকার যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ও গবেষকদের সঙ্গে পরামর্শ করে, তা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করবেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক বে-নজির আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, নতুন রোগী শনাক্তের ক্ষেত্রে প্রতিদিন রেকর্ড হচ্ছে।

শনাক্ত হওয়া রোগীদের একটি অংশকে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। ১০ থেকে ১৫ দিন পরে এ ধরনের রোগীদের জন্য শয্যা পাওয়া যাবে কি না, তা মূল্যায়ন করা দরকার।

এদের সেবার জন্য অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সরঞ্জাম লাগবে, বাড়তি জনবল লাগবে। আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এসব করা যাবে না। জরুরি আয়োজনের মধ্যে এসব করতে হবে।

তিনি বলেন, এখন সংসদ চলছে। সরকার দেশে জরুরি স্বাস্থ্যব্যবস্থা ঘোষণা করতে পারে। এতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সহজ হবে।

অন্যদিকে বিএসএমএমইউর ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান মো. সায়েদুর রহমান বলেন, সংক্রমণ বন্ধ করতে হলে ‘লকডাউন’ করতে হবে।

‘লকডাউন’ শব্দ ব্যবহার না করলেও লোক চলাচল বন্ধ করতে হবে, বিশেষ করে যেসব জায়গায় সংক্রমণ বেশি। দ্বিতীয়ত, নমুনা পরীক্ষার পরিমাণ বাড়িয়ে রোগী শনাক্ত করে তাঁদের চিকিৎসার আওতায় নিতে হবে।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের এই দুটি মৌলিক পন্থা বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা ১৮ দফা নির্দেশনায় নেই।