অমর একুশেবইমেলার উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

চ্যানেল ৯৬বিডি.কম,

ঢাকা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর বাংলা একাডেমি চত্বর এবং সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে মাসব্যাপী অমর একুশের বইমেলার উদ্বোধন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার  বিকেলে গণভবন থেকে বাংলা একাডেমির মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সকলকে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে এবং পরবর্তী প্রজন্মকে পড়ার বিষয়ে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান, কেননা সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষ সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং আরও অনেক কিছু জানতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী অনুবাদ সাহিত্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, নিজের মায়ের ভাষাকে জানা যেমন দরকার তেমনি অন্য ভাষা জানাটাও দরকার সে জন্য অনুবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সেজন্য বাংলা একাডেমিকে সবময়ই আমি অনুরোধ করেছি-অন্যান্য দেশের সাহিত্য যেন আমরা জানতে পারি। কারণ, সহিত্যের মধ্যদিয়েই মানুষের জীবনচর্চা জানা যায়, সংস্কৃতি ও ইতিহাস জানা যায়।

রাজনীতিকরা দিনভর বক্তৃতা করার পর সেখানে কিছুটা মন ছুঁয়ে গেলেও সাহিত্য মানুষের মধ্যে গভীর রেখাপাত করতে পারে। কাজেই, সাহিত্যের মাধ্যমে কোন বার্তা দেওয়া গেলে সেটা মানুষের মনে দীর্ঘ স্থায়িত্ব লাভ করে, বলেন

প্রধানমন্ত্রী।সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন।

বাংলা একাডেমির সভাপতি শামসুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক হাবিবুল্লাহ সিরাজি এবং সংস্কৃতি সচিব মো.বদরুল আরেফিন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু লেখা ‘আমার দেখা নয়া চীন’ গ্রন্থের ইংরেজী ভার্ষণ (নিউ চায়না ১৯৫২)-এর মোড়ক উন্মোচন করেন।

বাংলা একাডেমির পরিচালক ও একুশে বইমেলা কমিটির পরিচালক ড. জালাল আহমেদ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রতি বছর ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনের স্মরণে ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ থেকে মাসব্যাপী বইমেলা শুরু হলেও করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবার বিলম্ব হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, ২৮ দিনব্যাপী বইমেলা ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও, করোনা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে মেলাটি যে কোন সময় বন্ধ করে দেয়া হতে পারে।

অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২১-এর মূল প্রতিপাদ্য ‘বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও স্বাধীনতার সুবর্ণ-জয়ন্তী’।

এই প্রথমবারের মতো মেলায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে একটি প্রবেশ পয়েন্ট থাকবে এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের তিনটি প্রবেশ পয়েন্টের সাথে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ (আইইবি)-র পাশে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।মহামারী করোনার কারণে এর সংক্রমণ ঠেকাতে বইমেলায় নেওয়া হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা। প্রবেশ পথে থাকবে ‘নো মাস্ক-নো এন্টি’ সম্বলিত লোগো।

সব মিলিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৩টি প্রবেশ পথ ও ৩টি বাহির পথ থাকবে। প্রত্যেক প্রবেশ পথে সুরক্ষিত ছাউনি থাকবে, যাতে বৃষ্টি ও ঝড়ের মধ্যে মানুষ আশ্রয় নিতে পারেন।

বিশেষ দিনগুলোতে লেখক, সাংবাদিক, প্রকাশক, বাংলা একাডেমির ফেলো এবং রাষ্ট্রীয় সম্মাননাপ্রাপ্ত নাগরিকদের জন্য প্রবেশের বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে।

বইমেলার প্রবেশ ও বাহিরপথে পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ।

নিরাপত্তার জন্য মেলা এলাকাজুড়ে ৩ শতাধিক ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বইমেলা সম্পূর্ণ পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে।