ইবতেদায়ি মাদরাসা ও শিক্ষকের সংখ্যা যাচাইয়ে কমিটি

চ্যানেল ৯৬বিডি.কম,

ঢাকা :  ইবতেদায়ি মাদরাসার প্রকৃত সংখ্যা ও শিক্ষকদের তথ্য যাচাইবাছাই করতে ৬ সদস্যের কমিটি করেছে মাদরাসা অধিদফতর।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাঠ প্রশাসন থেকে পাঠানো ইবতেদায়ি মাদরাসার সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন ওঠায় তা যাচাইবাছাই করতে এ কমিটি করা হয়েছে।

এসব প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করতে সরকারপ্রধানের একটি অনুশাসন রয়েছে। সেজন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে যাচাইবাছাই কমিটিকে।

প্রতিবেদন পাওয়ার পর এসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার কাজ শুরু হবে। জানা গেছে, ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য এসে পৌঁছেছে। সেসব তথ্য যাচাইবাছাই করে প্রকৃত মাদরাসার সংখ্যা ও শিক্ষক সংখ্যা নির্ধারণ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা এমপিওভুক্ত করতে ২০১৮ সালে নীতিমালা জারি করা হলেও দুই বছরের বেশি সময়েও শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত হতে পারেননি।

২০১৯ সালের জুনে মাসে এসব মাদরাসা এমপিওভুক্ত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন দেন।

ওই প্রস্তাবনা অনুযায়ী দেশের ৪ হাজার ৩১২টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা এমপিওভুক্ত করতে খরচ হবে ৩১১ কোটি টাকা। অনুমোদিত প্রস্তাবনা অনুযায়ী, এমপিওভুক্তির পর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মাসে ১৪ হাজার টাকা বেতন পাবেন।

এছাড়া বৈশাখী ভাতা বাবদ ২ হাজার ৫০০ টাকা ও উৎসব ভাতা ৬ হাজার ২৫০ টাকা পাবেন। এছাড়া জুনিয়র শিক্ষক, মৌলভি এবং কারিরা মাসে বেতন হিসেবে পাবেন ১০ হাজার ৮০০ টাকা। সঙ্গে ঘর ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা হিসেবে পাবেন ১৫০০ টাকা। এছাড়া বৈশাখী ভাতা ১৮৬০ ও উৎসব ভাতা ৪ হাজার ৬৫০ টাকা পাবেন।

কিন্তু মাঠ প্রশাসন থেকে আসা এসব মাদরাসার প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকায় নতুন করে তা যাচাইবাছাই করতে কমিটি করা হয়েছে। ৬ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরের প্রশাসন ও অর্থ শাখার পরিচালককে।

অধিদফতরের অর্থ শাখার উপপরিচালক, প্রশাসন শাখার সহকারী পরিচালক, খুলনা বিভাগের পরিদর্শক ও মৌলভি প্রোগ্রামারকে কমিটির সদস্য করা হয়েছে। আর বরিশাল অঞ্চলের পরিদর্শককে কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে।

কমিটি গঠনের কারণ হিসেবে কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার প্রস্তাব অনুমোদনের পর সারাদেশে নাম সর্বস্ব ইবতেদায়ি মাদরাসা স্থাপনের হিড়িক পরে। অভিযোগ ওঠার পর নড়েচড়ে বসেছে মাদরাসা অধিদফতর। এরপরই সংগ্রহ করা তথ্য যাচাই বাছাইয়ে উদ্যোগী হয় সরকার।