কালের সাক্ষী মহেরা জমিদার বাড়ি

চ্যানেল ৯৬বিডি.কম,

টাঙ্গাইল :  দেশের ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক টাঙ্গাইলের  ঐতিহাসিক মহেরা জমিদার বাড়ি।   বাংলার স্বাধীনতাসহ নানা ইতিহাসসহ নানা ঘটনার কালের সাক্ষী এ জিমদার বাড়িটি।

১৮৯০ দশকের পূর্বে স্পেনের করডোভা নগরের আদলে নির্মিত।  প্রচলিত আছে, কালীচরণ সাহা ও আনন্দ সাহা নামে দুই ভাই কলকাতায় লবণ ও ডালের ব্যবসা করে প্রচুর অর্থ রোজগার করে চলে আসেন মহেরা গ্রামে।

এরপর তারা সুবিশাল বাড়িটি নির্মাণ করেন। ব্রিটিশ আমলে জমিদার প্রথা চালু হলে আশেপাশের কিছু এলাকা কিনে নেয় তাদের সন্তানরা।

স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকবাহিনী মহেরা জমিদার বাড়িতে হামলা করে এবং জমিদার বাড়ির কূলবধূসহ পাঁচজন গ্রামবাসীকে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরে এখানে মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।

স্বাধীনতার পর জমিদার বাড়িটি পুলিশ ট্রেনিং স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং পরে পুলিশ ট্রেনিং স্কুলকে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে উন্নীত করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে ব্যাপক সংস্কার কাজ চালিয়ে বাড়িটির আজকের এই রূপে দাঁড়িয়েছে।

জমিদার বাড়িতে চৌধুরী লজ, মহারাজা লজ, আনন্দ লজ ও কালীচরণ লজ নামে চারটি ভবন রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে নায়েব ভবন, কাচারি ভবন ও রানি মহল।

প্রতিটি স্থাপনাতে রয়েছে শিল্পীর হাতে করা অসাধারণ কারুকার্য । জমিদার বাড়িটির সামনেই রয়েছে ‘বিশাখা সাগর’ নামে বিশাল এক দীঘি। কেউ চাইলে ভাড়া নিয়েও থাকতে পারবেন এই সুবিশাল বাড়িতে।