পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত রাঙামাটি

চ্যানেল ৯৬বিডি.কম,

ঢাকা : করোনা ভাইরাসের থমকে যাওয়া পৃথিবীতে হতাশ ছিলেন ভ্রমন পিপাসুরা। কিন্তু করোনার ভয়কে জয় করে আবার ছুটছেন পর্যটকরা প্রিয় জায়গায় কাছের মানুষকে নিয়ে। পরিবার পরিজন নিয়ে দলবেঁধে, কিংবা মেতে উঠছেন দলছুট সেই দুরন্তপনায়।

প্রকৃতির রাণী রাঙামাটি। শীতের ভ্রমনে প্রকৃতি ঘেরা  মোহনীয় সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকরা আসছেন এখানে। করোনার প্রভাবে অনেকদিন বন্ধ ছিল থাকায় পর্যটন স্পট। আবার নবসাজে সজ্জিত ঝকঝকে স্পটগুলোতে ঘুরে দারুনভাবে আনন্দিত পর্যটকরাও।

হ্রদ পাহাড় ঘেরা রাঙামাটিতে রয়েছে প্রকৃতির গন্ধ, পাখির কলকাকলী। সবুজ চাদর পরে দাঁড়িয়ে থাকা নিশ্চল পাহাড়, পাহাড়ের পাদদেশে বয়ে চলা প্রাকৃতিক ছড়া, এঁকে বেঁকে দূর পাহাড়ের বাঁকে হারিয়ে যাওয়া মেঠোপথ, পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা ঝর্ণার স্বচ্ছ জল, কর্ণফুলীর স্রোত, কাপ্তাই হ্রদের শান্তজলে স্রোতহীন ছোট ছোট ঢেউ।

পাহাড়ের কঠিন বুকে ঘাম ঝরিয়ে গড়ে তোলা গ্রাম্য নারীর জুম। জুমের বিচিত্র সবজি বাগান আর রবি শস্যে সোনালী দোল। বুনো ফুলের মন মাতানো সৌরভ, অতিথি পাখির কিচির-মিচির ডাক, বানর ডাহুক আর হরিণের দুর্লভ মিতালী এমন বর্ণনাতীত বিচিত্র সৌন্দর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পার্বত্য রাঙামাটি। লীলাময়ী প্রকৃতি যেন আপন হাতে সৌন্দর্য সুধা ঢেলেছেন এখানে।

সবুজের শেষ প্রান্তে মেঘ বালিকার মিতালি, উঁচু-নিচু, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ। আর তুলির আঁচড়ের মতো মাঝে মাঝে সবুজের বুক চিরে বয়ে যাওয়া কাচালং নদী আর পাহাড়ি ছড়া।

ছবির মতো সবুজে ঘেরা পাহাড় আর কাপ্তাই হ্রদের বিশাল স্থির নীল পানি রাশি রাঙামাটিকে সৌন্দর্যের স্বর্গে পরিণত করেছে। নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যের অপার আঁধার পার্বত্য জেলা রাঙামাটি।  সম্প্রতি চালু হওয়া ওয়াটার বাস পর্যটকদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ।

শহরের প্রবেশ দ্বারে সাপছড়ির ফুরোমোন পাহাড়, আর শেষ প্রান্তে ডিসি বাংলো। জেলা পুলিশের ব্যবস্থাপনায় গড়ে ওঠা পলওয়েল ন্যাচারাল পার্কটি শিশুদের জন্য আদর্শ স্থান। নিরাপদও স্থানটির উল্লেখ যোগ্য দিক সমুদ্র সৈকতের স্বাদ নেয়ার সুযোগ। পলওয়েল ন্যাচারাল পার্কের পাশেই লাভস্পট।

দর্শনীয় স্থানের মধ্যে সুখী নীলগঞ্জ, ফুরমোন অনতম আকর্ষণীয়। এছাড়া কাপ্তাই হ্রদ, পর্যটন মোটেল, ডিসি বাংলো, ঝুলন্ত ব্রিজ, সাজেক, পেদা টিংটিং, সুবলং ঝর্ণা, রাজবাড়ি, রাজবন বিহার, উপজাতীয় জাদুঘর, কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ প্রকল্প, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান উল্লেখযোগ্য।