চাল আমদানির অনুমতি পেল আরও ১৯ প্রতিষ্ঠান

চ্যানেল ৯৬বিডি.কম,

ঢাকা : চালের বাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ী চাল নিয়ে চালবাজি করছে। কেজি প্রতি ৫ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত বাড়ছে।

এমন সময় আরও সোয়া ২ লাখ টন চাল আমদানির জন্য ১৯টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিয়েছে সরকার। এ ছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ-সংক্রান্ত চিঠিও পাঠিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) বাণিজ্য সচিব বরাবরে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ ভাঙা দানাবিশিষ্ট সিদ্ধ চাল (বাসমতি ছাড়া) শর্তসাপেক্ষে আমদানির জন্য অনুমতি দেওয়া হলো।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বরাদ্দপত্র ইস্যুর সাত দিনের মধ্যে ঋনপত্র-এলসি খুলতে হবে। এ-সংক্রান্ত তথ্য খাদ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে।

ব্যবসায়ীদের যারা ৫ হাজার টন বরাদ্দ পেয়েছেন, তাদের এলসি খোলার ১০ দিনের মধ্যে ৫০ শতাংশ এবং ২০ দিনের মধ্যে শতভাগ চাল বাজারজাত করতে হবে। আর যেসব প্রতিষ্ঠান ১০ থেকে ৫০ হাজার টন আমদানির অনুমতি পেয়েছেন তাদের ঋনপত্র খোলান ১৫ দিনের মধ্যে ৫০ শতাংশ এবং এক মাসের মধ্যে সব চাল বাজারজাত করতে বলা হয়েছে।

বেসরকারিভাবে যেসব প্রতিষ্ঠান চাল আমদানির অনুমতি পেয়েছে তাদের মধ্যে যশোরের মেসার্স মজুমদার অ্যান্ড সন্স ২০ হাজার টন, মেসার্স লিটন এন্টারপ্রাইজ ১০ হাজার টন, মেসার্স সুশান্ত কৃষ্ণ রায় ১০ হাজার টন, মেসার্স গ্লোবাল এন্টারপ্রাইস ৫ হাজার টন, সাতক্ষীরা থেকে মেসার্স মজুমদার এন্টারপ্রাইস ২৫ হাজার টন, মেসার্স নিশাত ইন্টারন্যাশনাল ১৫ হাজার টন, ময়মনসিংহ থেকে মেসার্স মজুমদার ট্রেডার্স ৫০ হাজার টন, গাইবান্ধা থেকে মেসার্স প্রধান ট্রেডার্স ৫ হাজার টন, পাবনা থেকে পূর্বাশা ট্রেডিং ৫ হাজার টন, দিনাজপুর থেকে মেসার্স ইউনাইটেড রাইস মিল ৫ হাজার টন, চাপাইনবাবগঞ্জের মেসার্স হোসেন ট্রেডার্স ১০ হাজার টন, মেসার্স নজরুল সুপার রাইসমিল ১০ হাজার টন, মেসার্স ইসলাম ট্রেডার্স ৫ হাজার টন, মেসার্স নবাব ফিড প্রোডাক্টস ১০ হাজার টন, শেরপুর থেকে মেসার্স এবি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ১০ হাজার টন, চট্টগ্রামের আল আমিন এস্টাব্লিশমেন্ট ৫ হাজার টন, মেসার্স সামছুল আলম ১০ হাজার টন, মেসার্স এস অ্যান্ড কোং ১০ হাজার টন, বগুড়ার ফিরিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ৫ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি পেয়েছে।

এর আগে গত রোববার (৩ জানুয়ারি) ১ লাখ ৫ হাজার টন সিদ্ধ চাল আমদানির জন্য ১০টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিয়েছিল খাদ্য মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে সরকারি পর্যায়েও চাল কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, বোরো মৌসুমে নির্ধারিত পরিমান ধান চাল সংগ্রহ করতে না পারা এবং আমন মৌসুমেও এই অভিযান ব্যর্থ হওয়ার পথে।

অন্যদিকে বাজারে চালের উর্দ্ধমূল্যের কারণে চালের মজুত বাড়াতে আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারিভাবে চাল আমদানি করতে শুল্ক কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।