করোনায় মানসিক ক্ষতিগ্রস্ত শিশুরা

চ্যানেল ৯৬বিডি.কম,

ঢাকা : করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) বর্তমানে পৃথবীর এক  আতঙ্কের নাম। যা মানুষকে করে দিয়েছে বিপর্যন্ত। কখনোবা করেছে বিবেকহীন, কখােনাবা করেছে মানবিক। এ এক অব্যক্ত অনুভূতি।

করোনা ভাইরাস’ পুরো বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে। বিশ্ব  মানব সমাজের এমন কোন ক্ষেত্র নেই, যেখানে প্রভাব ফেলেনি করোনা। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত করোনায়। করোনায় আরো বেশী মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচেছ শিশুরা ।

বছরের শুরুতে শিক্ষা জীবনে প্রথম পা রেখেছিল প্রাইওরিটি চিলড্রেন স্কুলের ক্ষুদে শিক্ষার্থী আরিশা আহসান (৫)।  সে আড়াই মাস স্কুলে যেতে পেরেছে। স্কুলে যাওয়া বাসায় পড়াশোনা করা, রীতিমত অভ্যাসে পরিণত হয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন তাকে ঘরে পড়তে বসানো মুশকিল হয়ে পড়েছে- এমনটাই বললেন তার মা-বাবা।

ধানমন্ডি কচিকণ্ঠ হাইস্কুলে ভর্তি হয়েছিল রায়কা।  তার মা-বাবা জানান, করোনা শুরুর আগে প্রতিদিন রায়কা স্কুলে যেত, বাড়িতে পড়াশোনা করত। বেশ আগ্রহের সাথেই সে লেখাপড়া করত ।

কিন্তু করোনার কারণে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন তাকে পড়তে বসানো বেশ কঠিন হয়ে গেছে। পাশাপাশি আচরণগত পরিবর্তনও এসেছে বলে জানান।

বছরের শুরুতে নতুন বই হাতে পেলেও শিশুরা বেশিদিন বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়নি। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুদের পড়াশোনা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি তারা মানসিকভাবেও ভালো নেই।

অভিভাবক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ওপর।

এ প্রসঙ্গে ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের হিসাববিজ্ঞানের অধ্যাপক মো. হেমায়েত হোসেন বলেন, পড়াশোনার সাথে সাথে এই সময়টিতে তারা সামাজিক নানা আচরণও শেখে। এক্ষেত্রে স্কুলের গুরুত্ব অনেক বেশি। প্রতিটি স্কুলে শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক নানা আয়োজন থাকে। এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সে সব বিষয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই শিশুদের পড়াশুনা ক্ষতিগ্রস্তের পাশপাশি সবচেয়ে ভাবনার বিষয় যে, তারা মানসিকভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছে।’

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই দীর্ঘ ছুটিতে শিশু শ্রম বাড়বে। মেয়ে শিশু ঝরে পড়বে। কারণ অনেক অসচ্ছল পরিবার তাদের সন্তানদের কাজে যুক্ত করে দেবে। অন্যদিকে মেয়ে শিশুদের বিয়ে দেবে।

কামরাঙ্গীরচরের আশরাফাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, ‘শিশুদের সঙ্গে দেখা হলেই তারা বলে স্কুল খুলবেন কবে স্যার। তাদের মনে হয় বাড়িতে ভালো লাগে না। শিশুদের নিয়েই আমাদের সময় কাটে। এখন তা সম্ভব হচ্ছে না। অন্য দিকে তাদের পড়াশোনার ব্যাপক ঘাটতি হচ্ছে।’ লম্বা ছুটির কারণে তাদের শিখনে দুর্বলতা বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রাক প্রাথমিকে শিশুরা যা শিখেছে তা সব ভুলে যাবে। আর তাদেরকে পুনরায় স্কুলে ফেরাতেও অনেক সমস্যা হবে। তার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো শিক্ষার মান অনেক পিছিয়ে গেছে। তা ফিরিয়ে আনতে শিক্ষক ও অভিভাবককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

এদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে স্কুল বন্ধকালীন গ্রামের শিশুরা প্রাকৃতিক পরিবেশ পেলেও শহরের শিশুরা একেবারেই গৃহবন্দি। তাই শিশুদের বাইরে ঘুরতে নেয়া প্রয়োজন, তাদের সঙ্গে হাসি খুশি, আড্ডাসহ ভাল ব্যবহার করতে হবে।

গত ১৭ মার্চ থেকে সকল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়, যা এখনো চলছে।