অত্যাধুনিক ইঞ্জিনের সর্বোচ্চ গতিবেগে চালানো যাবে না ট্রেন

চ্যানেল ৯৬বিড.কম,

ঢাকা : অত্যাধুনিক ইঞ্জিনের সর্বোচ্চ গতিবেগে চালানো যাবে না ট্রেন। কারণ রেললাইনের সক্ষমতা কম। রেলপথে যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে দীর্ঘদিন পর নতুন লোকোমোটিভ আমদানির সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১১০ কিলোমিটার গতিবেগের নতুন ১০টি মিটার গেজ লোকোমোটিভ আমদানি করা হয়।

সম্প্রতি হুন্দাইয়ের তৈরি ২২০০ হর্স পাওয়ারের অত্যাধুনিক ওসব ইঞ্জিনের লোকোমোটিভগুলোর ট্রায়াল রানও সম্পন্ন হয়েছে। ট্রায়াল রানে লোকোমোটিভের পারফরম্যান্স সন্তোাষজনক প্রমাণিত হয়। ফলে এর মধ্য দিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো মিটার গেজে দ্রুতগতির লোকোমোটিভ যুক্ত হলো। ওসব লোকোমোটিভ ব্রড গেজেও রূপান্তর করা সম্ভব।

কিন্তু দেশের বিদ্যমান রেললাইনের সক্ষমতা কম হওয়ায় আমদানি করা ইঞ্জিন দিয়ে রেলওয়ে সর্বোচ্চ গতিবেগে ট্রেন চালাতে পারবে না। বাংলাদেশ রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বাংলাদেশ রেলওয়েতে প্রায় এক দশক পর ১০টি নতুন ইঞ্জিন (লোকোমোটিভ) যুক্ত হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আনা ওসব ইঞ্জিনের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার। কিন্তু ওই গতিবেগে ট্রেন চালাতে হলে যে ধরনের মজবুত রেললাইন দরকার তা দেশে নেই।

ফলে অবকাঠামোগত দুর্বলতায় অত্যাধুনিক ওসব ইঞ্জিনের গতিও ৭৫-৮০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। তার বেশি গতিবেগে ট্রেন চালানো সম্ভব হবে না। প্রায় এক দশক ধরে রেলে লোকোমোটিভ আমদানি না হওয়ায় পুরনো লোকোমোটিভগুলোর অতি ব্যবহারে ইঞ্জিনের গতি কমে আসছিল। ওই কারণে নাজুক হয়ে পড়ে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী ট্রেনগুলোর সেবা। পুরনো ইঞ্জিনের কারণে ট্রেন সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় না।

সূত্র জানায়, আমদানিকৃত ইঞ্জিনগুলোর ডিজাইন স্পিড ১১০ কিমি। লোডেড অবস্থায় টেস্ট অ্যান্ড ট্রায়ালে রেললাইনে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৯০ কিলোমিটার গতি ওঠে। পণ্যবাহী বগি নিয়ে ৩০০১ সিরিজের নম্বরযুক্ত ইঞ্জিনটি ট্রায়ালে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে চলেছে, যা আগের পণ্যবাহী ট্রেনগুলোতে চলাচলরত ইঞ্জিনের প্রায় দ্বিগুণ।

দেশসেরা বিরতিহীন আন্তঃনগর সুবর্ণ এক্সপ্রেস ছাড়াও বেশ কয়েকটি কনটেইনারবাহী ট্রেনে ট্রায়াল রান সম্পন্ন করে আগের চেয়েও বেশি গতিবেগে ট্রেন চালিয়েছে রেলওয়ে। মূলত সর্বশেষ সুবিধাসংবলিত ইঞ্জিন আমদানি করা হয়েছে। কিন্তু ওসব ইঞ্জিনের সর্বোচ্চ সক্ষমতা ব্যবহার করা সম্ভব নয়।

সূত্র আরো জানায়, দুর্ঘটনা এড়াতে রেলওয়ের পরিবহন বিভাগ নির্ধারিত গতির চেয়েও কম গতিবেগে ট্রেন পরিচালনা করে। ফলে নিরবচ্ছিন্নভাবে সর্বোচ্চ গতিবেগে ট্রেন না চালিয়ে রেলওয়ের ওয়ার্কিং টাইম টেবিলে (ডব্লিউটিটি-৫২) সেকশনওয়ারি গতিবেগের বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া রয়েছে।

রেলপথের জীর্ণদশার কারণে কয়েক বছরের মধ্যেই রেলের বিভিন্ন ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা কমে আসছে। দেশে মিটার গেজ রেলপথে সর্বোচ্চ ৭৫ কিলোমিটার গতিবেগে ট্রেন চলাচল করে। অন্যদিকে ব্রড গেজ রেলপথের প্রস্থ বেশি হওয়ায় ওখানকার ট্রেনের সর্বোচ্চ গতিবেগ ৮০-৮৫ কিলোমিটার।

এমন অবস্থায় নতুন কোচ ও ইঞ্জিনের ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও পুরনো ট্র্যাক, রেলপথে পাথর কমে যাওয়াসহ অবকাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতার কারণে নতুন ইঞ্জিনের সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে রেলওয়ে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের (পূর্বাঞ্চল) বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) তারেক মোহাম্মদ সামছ তুষার জানান, কোরিয়া থেকে এর আগেও রেলওয়ে ইঞ্জিন আমদানি করেছে। নতুন ইঞ্জিনগুলো দিয়ে ইতিমধ্যে ট্রায়াল রানও করা হয়েছে। অনুমোদন সাপেক্ষে ইঞ্জিনগুলো রেলের যান্ত্রিক প্রকৌশল বিভাগের বিভিন্ন ট্রেনে সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে।