চালের দাম বাড়াচ্ছে আড়তদার-মিলাররা : কৃষিমন্ত্রী

চ্যানেল ৯৬বিডি.কম,

ঢাকা : আমনের ভরা মৌসুমে আড়তদার-মিলাররা ‘কারসাজি করে’ চালের দাম বাড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক।

রোববার সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ঘাটতি মেটানোর জন্য সরকার ৫ থেকে ৬ লাখ টন চাল বিদেশ থেকে আমদানি করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সরকারি গুদামে চাল কমে গেছে। গত বছর প্রায় ১৩ লাখ টনের মত খাদ্য ছিল, এ বছর সেটা কমে ৭ লাখ টনে নেমে এসেছে।

এই যে ৫ থেকে ৬ লাখ ঘাতটি যদি না মেটাতে পারিৃ বাংলাদেশের মিলাররা, আড়তদাররা, জোতদাররা, যারা বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করে, তারা চালের দাম বাড়ায় এবং এবারও তারা সেই কাজ করছে।

মৌসুমের সময় তারা এখনও ধান কিনছে এবং ধান ও চালের দাম দুটোই বাড়িয়ে দিয়েছে।এখন আমনের ভরা মৌসুম চললেও ধান ও চাল-দুটোরই দাম গত বছরের তুলনায় বেশি।

সরকারের ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে নাজিরশাইল ও মিনিকেটের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ।

আর ইরি বা স্বর্ণার মত মোটা চালের দাম ১২ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেড়েছে। মাঝারি মানের চাল পাইজাম বা লতার দাম বেড়েছে ১৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

এই পরিস্থিতিতে ভারতসহ অন্যান্য দেশ থেকে চাল আমদানির সুযোগ তৈরি করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলন, “২৫ শতাংশ শুল্ক দিয়ে বিদেশ থেকে চাল আমদানি করা যাবে।

প্রাইভেট সেক্টরকেও সেই সুযোগ দেওয়া হবে। প্রাইভেট সেক্টর এবং সরকার ৫ থেকে ৬ লাখ টন চাল আনতে পারবে। এর বেশি হলে আমরা আর অনুমতি দেব না। যখনই ৬ লাখ টনের এলসি দেওয়া হবে, তারপর আর এলসির সুযোগ দেওয়া হবে না।”

চাল আমদানিতে ৬২ দশমিক ৫ শতাংশের মত শুল্ক দিতে হত। তা কমিয়ে ২৫ শতাংশ করার কথা রোববারই জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী।

সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ‘সর্বাত্মক উদ্যোগ’ গ্রহণ করেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অতটা চালের ঘাটতি আমাদের নাই। কিন্তু এই সুযোগে মিলাররা নানা রকম কারসাজি করে চালের দাম বৃদ্ধি করার চেষ্টা করছে। আমরা যদি চালের সরবরাহ বিদেশ থেকে নিয়ে আসি, আমার মনে হয় না খুব অসুবিধা হবে।

কৃষিমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে চাল আসা শুরু হয়েছে, ভারতে সঙ্গে সরকারিভাবে চুক্তি হয়েছে। থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম থেকেও চাল আনার চেষ্টা করা হবে। সব মিলিয়ে সরকারের পূর্ণ উদ্যোগ ও প্রস্তুতি রয়েছে চালের ঘাটতি মেটানোর জন্য।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ইতোমধ্যে নানামুখী উদ্যাগ গ্রহণ করেছে। চলের আমদানি শুল্ক সাড়ে ৬২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে।

সরকারি ও প্রাইভেট পর্যায়ে ভারত, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম থেকে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে। ৬ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে। এর বেশি চাল আমদানি করা হবে না।

তিনি বলেন, এ মাসেই ভারত থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল আমদানি করা হচ্ছে। দালের দাম বৃদ্ধিতে কেউ না খেয়ে থাকবে না। কেউ ক্ষুধায় কষ্ট পাবে না। এজন্য ওএমএস চালু করা হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী আরো বলেন, আসন্ন বোরো মৌসুমে ধানের উৎপাদন বাড়াতে ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের চাষাবাদ বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ২ লাখ হেক্টরে হাইব্রিড ধানের চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য কৃষককে সার, বীজসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে ও আল্লাহ সহায় থাকলে আগামী বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হবে।