জেমকন খুলনা চ্যাম্পিয়ন

চ্যানেল ৯৬বিডি ডটকম,

স্পোর্টস ডেস্ক : মাশরাফির ঘরে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের শিরোপা। ৭ আসরে ৪ বারই শিরোপা ঘরে উঠেছে তার নেতৃত্বাধীন দলের। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ম্যাচে টস জিতে প্রথমে বোলিং করতে নামে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম।

বল হাতে প্রথমেই আক্রমণে আসেন স্পিনার নাহিদুল ইসলাম। প্রথম বলেই খুলনার ওপেনার জহিরুল ইসলামকে শিকার করেন চট্টগ্রামকে দারুণ সূচনা এনে দেন নাহিদুল। মিড-অফে মোসাদ্দেক হোসেনকে ক্যাচ দেন জহিরুল।

এখানেই ক্ষান্ত হননি নাহিদুল। নিজের দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলে আবারো খুলনা শিবিরে আঘাত হানেন তিনি। তিন নম্বরে নামা ইমরুল কায়েসকে ৮ রানের বেশি করতে দেননি নাহিদুল। মিড-অফে বাউন্ডারি লাইনে কাছে ফিল্ডার থাকা সত্বেও ছক্কা মারতে গিয়ে সৌম্য সরকারকে ক্যাচ দেন ইমরুল। ফলে ২১ রান তুলতেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে খুলনা।

চাপ থেকে দলকে চিন্তামুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন ওপেনার জাকির হাসান ও চার নম্বরে সাকিব আল হাসানের পরিবর্তে নামা আরিফুল হক। জুটিতে ২২ রান আসার পর তাদের বিচ্ছিন্ন করেন স্পিনার মোসাদ্দেক। ২০ বলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৫ রান করা জাকিরকে শিকার করেন মোসাদ্দেক।

দলীয় ৪৩ রানে জাকিরের বিদায়ের পর ক্রিজে আরিফুলের সঙ্গী হন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দ্রুত পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিয়ে দলের রানের চাকা ঘুরাতে থাকেন তারা। ১১ ওভার শেষে ৭৭ রান পেয়েও যায় খুলনা। তখন রান রেট ছিলো ওভারপ্রতি ৭ করে।

এখান থেকে রানকে আরও বাড়ানোর পরিকল্পনায় ছিলেন আরিফুল-মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু ১২তম ওভারে আরিফুলকে শিকার করে চট্টগ্রামকে খেলায় ফেরানোর পথ দেখান বাঁ-হাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। উইকেটে পেছনে লিটন দাসকে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ২১ রানে থামেন আরিফুল। ২৩ বল খেলে ২টি চার মারেন তিনি।

দলের স্কোর যখন ৮৩ রানে, তখন আউট হন আরিফুল। এরপর শুভাগত হোমের সাথে ৩৪ রানের জুটি গড়ে দলকে ভালো অবস্থায় নিয়ে যান মাহমুদউল্লাহ। জুটিতে ১৫ রান অবদান রেখে শরিফুলের বলে ফিরেন শুভাগত। তার ১২ বলের ইনিংসে ১টি করে চার ও ছক্কা ছিলো।

শুভাগত আউট হবার পর খুলনার ইনিংসে ২৬ বল বাকী ছিলো। এক প্রান্ত দিয়ে শামিম হোসেন শুন্য ও মাশরাফি বিন মর্তুজা ৫ রান করে থামলেও, অন্য প্রান্ত আগলে রেখে সংক্ষিপ্ত ভার্সনে ৩৯তম বলে হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান মাহমুদউল্লাহ। ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে চট্টগ্রামের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাউন্ডারি মেরে এবারের আসরে প্রথম অর্ধশতকের দেখা পান তিনি।

 

ফাইনালের মঞ্চে মাহমুদউল্লাহর এই হাফ-সেঞ্চুরি শেষ পর্যন্ত খুলনাকে লড়াকু সংগ্রহই এনে দেয়। সৌম্যর করা শেষ ওভারের তৃতীয় বলে চার, চতুর্থ বলে ছক্কা ও পঞ্চম বলে চার মারেন মাহমুদউল্লাহ। ঐ ওভার থেকে ১৭ রান পায় দল। ফলে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৫ রান করে খুলনা।

চট্টগ্রামের বোলারদের মাঝে নাহিদুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম দুটি করে উইকেট নেন। একটি করে উইকেট নেন মোস্তাফিজুর রহমান ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

১৫৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে দেখে শুনে খেলতে থাকেন সৌম্য সরকার ও লিটন দাস। দলীয় ২৬ রানের মাথায় সৌম্যকে হারায় চট্টগ্রাম। শুভাগত হোমের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে একবার জীবন পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি সৌম্য। ১০ বলে ১২ রান করেন তিনি। পরের ওভারে মিঠুনকে এলবির ফাঁদে ফেলেন আল আমিন। এরপর ২৩ রানের মাথায় রান আউট হয়ে ফিরেন লিটন।

দলীয় ৯৬ রানে শামসুর রহমানকে শুভাগতের ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে পাঠান হাসান মাহমুদ। ২১ বলে ২৩ রান করেন তিনি। দলের স্কোর ৯৬ থেকে ১৪৩ পর্যন্ত টেনে নেন মোসাদ্দেক ও সৈকত। শেষ ওভারে মোসাদ্দেক ১৯ রানে ও সৈকত ফেরে ৫৩ রানে। দুজনের উইকেটই শিকার করেছেন শহিদুল ইসলাম। শেষ বলে জয়ের জন্য দরকার ছিল ১২ রান। শহিদুলের বলে ছয় মেরে রানের ব্যবধান কমালেও হার এড়াতে পারেনি নাহিদুল। ৬ রানে নাহিদুল ও ১ রানে অপরাজিত থাকেন নাদিফ।