মাদারীপুরের ঐতিহ্য শকুনি লেক 

চ্যানেল ৯৬বিডি ডটকম

মাদারীপুর :  শকুনি লেক মাদারীপুরের ঐতিহ্য। জেলার বিনোদন স্পট  গুলাের  মধ্যে অন্যতম। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ লেকেরপাড়ে ঘুরতে আসে, বিশ্রাম নেয়। শহরের প্রাণকেন্দ্রে হওয়ায় কোনপ্রকার ঝুকিতে পড়তে হয়না দর্শনার্থীদের। তাই স্বাচ্ছন্দে বিনোদন  প্রেমীরা আনন্দ উল্লাস করতে এখানে আসেন, সময় কাটান। এখানে সারাক্ষনেই থাকে মানুষের পদচারণা। শহরবাসীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান লেকপাড়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকে লেকপাড় এলাকাটি।

শুধু তাই নয় ঈদ, পূজা, জাতীয় দিবসসহ বিভিন্ন উৎসবেও দর্শনার্থীদের ভিড় জমে লেকের পাড়ে। বিভন্ন সংগঠন, নতুন পুরাতন বন্ধুদের মিলনমেলায় পরিনত হয় লেকপাড়। আর এই বিনােদন কেন্দ্রকে ঘিরে বাহারি সৌখিন পণ্যের পসরা নিয়ে বসেন দোকানিরা। জমে ওঠে  চটপটি, ফুচকাসহ বিভিন্নহালকা খাবারের দোকান।  বসে বাচ্চাদের খেলনা সামগ্রীর দোকানও । শুধু মাদারীপুর শহর-ই নয়, জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও অসংখ্য মানুষ ঈদের ছুটিতে ঘুরতে আসেন এখানে। মফস্বল শহরে অন্য কোনো বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় এখানেই এসে সময় কাটায় মানুষ।

সম্প্রতি লেকের সৌন্দর্য বর্ধন করা হয়েছে। রাতের  নানা রংয়ের লাইটিং  নয়াভিরাম  দৃশ্য যে কারো চোখ জুড়িয়ে যাবে। ভাল হয়ে যাবে বিষন্ন মন। তাইতো দিনের সূর্য  বিকেলে গড়িয়ে পড়লেই  বাড়ে মানুষের ভিড়।

জানা যায়, ১৮৮৪ সালে শকুনি লেকটি খনন করা হয়। দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে ছিল। পরে ২০১৩ সালে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ শুরু হয়।  লেকের একটি অংশে শিশুদের বিনোদনের কথা মাথায় রেখে গড়ে তোলা হয়েছে শিশুপার্ক। লেকের পানিতে নামানো হয়েছে প্যাডেল বোট। কৃত্রিমভাবে এ লেক সৃষ্টি করা হলেও সময়ের ব্যবধানে নিজ থেকেই সেখানে ফুটে উঠছে প্রাকৃতিক চিত্র।

প্রচলিত রয়েছে, ২০ একর জমির ওপর  লেকটি খনন করতে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা অঞ্চল থেকে দুই হাজার শ্রমিক এনেছিল। এক টানা কাজ করে প্রায় ৯ মাসে এর খনন কাজ সম্পন্ন করেন তারা।  বর্তমানে শকুনি লেক  প্রকল্পে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল, শহীদ কানন, শিশু পার্ক, স্বাধীনতা অঙ্গন, এমপি থিয়েটার মঞ্চ, শান্তি ঘাটলা, পানাহারসহ মাদারীপুর ঘড়ি নামে একটি সুউচ্চ টাওয়ার।