কালের সাক্ষী ঐতিহাসিক বালিয়াটি জমিদার বাড়ি

চ্যানেল ৯৬বিডি ডটকম

মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক বালিয়াটি জমিদার বাড়ি। । বছরের পর বছর নানা ঘটনা প্রবাহ লালন করে স্বকীয়তায় টিকে আছে ঐতিহ্যের ধারক এই জমিদার বাড়ি। প্রতিদিন শত শত মানুষের ঢল নামে এই জমিদার বাড়িতে। অনেক দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এখানে আসে।

দর্শনীয় স্থানসমূহের মধ্যে বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে আছে দৃষ্টিনন্দন ইমারত, নির্মাণ কৌশল আর অলংকরণে অপূর্ব। যা জমিদারদের বিত্ত বৈভবের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। জমিদার বাড়ির সিংহ দরজায় প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে প্রশস্ত আঙিনা। এই বাড়িতে রয়েছে মোট সাতটি স্থাপনা ।

ঊনবিংশ শতকে জমিদার পরিবারের বিভিন্ন উত্তরাধিকার কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে স্থাপিত হয়েছিলো। একই লাইনে দাঁড়িয়ে আছে চারটি বহুতল ভবন। এগুলোর পেছনে জমিদার অন্দরমহল। রয়েছে বেশ কয়েকটি বড় বড় পুকুর।

পুরো জমিদার বাড়ির চত্বরটি উঁচু প্রাচীরে ঘেরা। প্রাচীন ঐতিহ্যের প্রাসাদের ২০০ কক্ষের প্রতিটি কক্ষেই রয়েছে প্রাচীন শিল্পের সুনিপুণ কারুকাজ। প্রাসাদ চত্বরটি প্রায় ১৬ হাজার ৫৫৪ বর্গমিটার জমির ওপর ছড়িয়ে থাকা সাতটি দালানের সমাবেশ। জমিদার বাড়ির প্রবেশ দরজার দুপাশে রয়েছে দুটি তেজী সিংহের পাথরের মূর্তি। এরপরই নজরে আসবে প্রশস্ত আঙিনা।

বর্তমানে আঙিনাটি ফুলের বাগান। পেছনের অন্দর মহলে বিশালাকার পুকুর রয়েছে। পুকুরের একপাশে শৌচাগার। চারপাশে রয়েছে চারটি শান বাঁধানো নান্দনিক ঘাট।

বালিয়াটি প্রাসাদটি স্থাপত্য কৌশলের অন্যতম নিদর্শন। সুবিশাল প্রাসাদটি পাঁচটি স্বতন্ত্র ব্লকের সমন্বয়ে গঠিত। যার মধ্যে পূর্বদিকের একটি ব্লক ছাড়া চারটি ব্লকের দুটিতে একটি দ্বিতল ভবন এবং একটি টানা বারান্দা বিশিষ্ট ত্রিতল ভবন রয়েছে। প্রাসাদটির পেছনে রয়েছে অন্দরমহল। উত্তরদিকের ভবনটি কাঠের কারুকার্যে তৈরি। সুবিশাল প্রাসাদটির চারপাশেই সুউচ্চ দেয়াল রয়েছে। প্রতিটি অর্ধ-বৃত্তাকার খিলান আকৃতির সিংহ খোদাই করা তৌরণ বিদ্যমান।

পশ্চিম অংশে অবস্থান বলেই বাড়িটির নাম পশ্চিম বাড়ি। ১৮৮৪ সালে জমিদারের উত্তরাধিকার জমিদার কিশোরীলাল রায় চৌধুরী বিখ্যাত জগন্নাথ কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বালিয়াটির পূর্ব অংশে এ বাড়ির অবস্থান বলেই এ বাড়ির নামকরণ করা হয় পূর্ববাড়ি।

এ বাড়ির প্রথম জমিদার পুরুষ রায় চাঁন। তিনি দুটি বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রীর সন্তানদের সম্পত্তির দশ আনা অংশ এবং দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর সন্তানদের দান করেন ছয় আনা অংশ। দশ আনার জমিদার বাড়িটিই বর্তমানে পর্যটকদের দর্শনীয় স্থান। এ

খানে পশ্চিম থেকে পূর্ব পর্যন্ত চারটি সুবৃহৎ অট্টালিকা বিদ্যমান। এগুলো বড় তরফ, মেঝো তরফ, নয়া তরফ এবং ছোট তরফ নামে পরিচিত। তবে ছয় আনার জমিদার বাড়ির অস্তিত্ব বর্তমানে নেই। রোববার পূর্ণদিবস ও সোমবার অর্ধদিবসসহ সরকারি ছুটির দিনসহ ঈদের পরের দিন এই প্রাসাদ বন্ধ থাকে।

নিম্নবিত্ত সাহা পরিবার থেকে বালিয়াটি জমিদার বংশের উদ্ভব হয়েছিলো বলে ইতিহাস থেকে জানা যায়। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্লকটি যাদুঘর হিসেবে রয়েছে। যা বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ কর্তৃক সংরক্ষিত ও পরিচালিত।