আফগানিস্তানে বিমান হামলায় বেড়েছে বেসামরিক মৃত্যু

চ্যানেল ৯৬বিডি ডটকম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে ব্যাপকভাবে বেড়েছে বেসামরিক মৃত্যুর ঘটনা। সম্প্রতি মার্কিন ব্রাউন ইউনিভার্সিটির কস্ট অব ওয়ার প্রজেক্ট জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে দেখা গেছে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র বাহিনীর বিমান হামলায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর হার ২০১৭ সালের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৩৩০ শতাংশ ।খবর আল জাজিরা।

মার্কিন ব্রাউন ইউনিভার্সিটির কস্ট অব ওয়ার প্রজেক্ট জরিপের তথ্যমতে, কেবল ২০১৯ সালেই এসব বিমান হামলায় দেশটিতে প্রায় ৭০০ বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযান শুরুর পর এক বছরে যা সর্বোচ্চ নিহতের ঘটনা।

কস্ট অব ওয়ার প্রজেক্ট জানিয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তানে যুদ্ধে জড়ানোর নিয়ম শিথিল করায় মূলত বেড়েছে বেসামরিক মানুষের মৃত্যু।

গবেষকেরা বলছেন, আফগানিস্তানে মাঠ পর্যায়ে মার্কিন সেনার সংখ্যা কমে যাওয়া বিমান হামলায় হতাহত বাড়ার একটি কারণ। এছাড়াও তালেবানদের শান্তি আলোচনায় বাধ্য করতেও এই ধরনের হামলা বেড়েছে বলে মনে করেন তারা।

গত ফেব্রুয়ারিতে তালেবানদের সঙ্গে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তির পর আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালানো থেকে সরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া দেশটিতে মার্কিন সেনার সংখ্যা আরও কমিয়ে ফেলারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা।

তবে কস্ট অব ওয়ার প্রজেক্টের জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান চুক্তি স্বাক্ষরের পর আফগান সেনাবাহিনী নিজেদের বিমান হামলার পরিমাণ বাড়িয়েছে। যদিও আফগান সরকার ও তালেবানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা এখনও চলছে।

মার্কিন প্রজেক্টটির জরিপে বলা হয়েছে, ইতিহাসের অন্য যেকোনও সময়ের চেয়ে বর্তমানে আফগান বিমান বাহিনী অনেক বেশি বেসামরিক মানুষের ক্ষতি করছে। ২০২০ সালের প্রথম ছয় মাসে আফগান বাহিনীর হামলায় ৮৬ জন বেসামরিক মানুষ নিহত ও অপর ১০৩ জন আহত হয়েছে।

গত মাসে দাতব্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিগত ১৪ বছর ধরে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ জন শিশু নিহত কিংবা আহত হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি জানায় ২০০৫ থেকে ২০১‌৯ সাল পর্যন্ত দেশটির অন্তত ২৬ হাজার ২৫ শিশু নিহত কিংবা অঙ্গহানির শিকার হয়েছে।