প্রিমিয়ার লিগে শীর্ষে টটেনহ্যাম

চ্যানেল৯৬বিডি.কম
লন্ডন: দীর্ঘ নয়মাস পর দর্শকদের ঘরের মাঠ এ্যানফিল্ডে আতিথ্য দিয়েছে লিভারপুল। আর হাজার দুয়েক দর্শককে হতাশ করেনি রেডরা। উল্ফসের বিপক্ষে ৪-০ গোলে জয়ী হয়ে টটেনহ্যামের সাথে যৌথভাবে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে উঠে এসেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়না।

যদিও গোল গড়ে এগিয়ে আবারো চেলসিকে হটিয়ে আবারো শীর্ষস্থানটি মজবুত করেছে স্পার্সর। কাল বড় ম্যাচে তারা গানার্সদের ২-০ গোলে পরাজিত করেছে। ঘরের মাঠে স্পার্সদের হয়ে আরো একবার দেখা গেছে সন হেয়াং-মিন ও হ্যারি কেন ঝলক।

৩০ বছরের খরা কাটিয়ে গত মৌসুমে প্রথমবারের মত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জেতার কৃতিত্ব দেখিয়েছিল জার্গেন ক্লপের দল। কিন্তু গত মৌসুমের সেই কৃতিত্ব করোনা মহামারীর কারনে দর্শকরা মাঠে বসে উপভোগ করতে পারেনি।

এবারও লীগ শুরু হয়েছিল দর্শকবিহীন স্টেডিয়ামে। কিন্তু করোনা ভয়াবহতা কাটিয়ে ক্রমেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে থাকা ইংল্যান্ডে চলতি সপ্তাহ থেকে আবারো দর্শক উপস্থিতির অনুমতি মিলেছে।

আর সেই রাতটাকে রাঙিয়ে দিয়েছেন মোহাম্মদ সালাহ, জর্জিনিও উইজনালডাম, জোয়েল ম্যাটিপরা।

দিনের শুরুতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টটেনহ্যাম হটস্পার স্টেডিয়ামে হোসে মরিনহোর স্পার্স ২-০ গোলে মিকেল আর্তেতার আর্সেনালকে পরাজিত করে একদিন পরে টেবিলের শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে। গতকাল লিডস ইউনাইটেডকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে শীর্ষে উঠে এসেছিল ব্লুজরা।

টটেনহ্যাম ও লিভারপুল উভয় দলই ১১ ম্যাচ থেকে সমান ২৪ পয়েন্ট অর্জণ করেছে। আরেক ম্যাচে লিস্টার সিটি তলানির দল শেফিল্ড ইউনাইটেডকে ২-১ গোলে পরাজিত করে টেবিলের চতুর্থ স্থানে ধরে রেখেছে।

এ্যানফিল্ডে লিভারপুল ও উল্ফস দুটি দল শুরুতে কাউন্টার এ্যাটাকে বেশ বিপদজনক হয়ে উঠেছিল। তার ধারাবাহিকতায় প্রথম সফলতা পায় স্বাগতিকরাই। ২৪ মিনিটে উল্ফস অধিনায়ক কনর কোডির ভুলে সালাহ লিভারপুলকে এগিয়ে দেন।

৫৮ মিনিটে দুর্দান্ত কার্লিং ফিনিশিংকে উইজনালডাম ব্যবধান দ্বিগুন করেন। ৬৭ মিনিটে সালাহর এসিস্টে ম্যাটিপ খুব কাছে থেকে হেডের সাহায্যে রেডসদের ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

৭৮ মিনিটে নেলসন সেমেডোর আত্মঘাতি গোলে বড় জয়ে বাড়ি ফিরেছে লিভারপুল।
এ নিয়ে লিগে ঘরের মাঠে সর্বশেষ ৩২টি ম্যাচের মধ্যে ৩১টিতেই জয়ী হলো রেডরা। এর মধ্যে গোল দিয়েছে সব মিলিয়ে ৯৩টি ও হজম করেছে ২৫টি।

ম্যাচ শেষে অনেকটাই আবেগঘন কন্ঠে ক্লপ বিবিসিকে বলেছেন, ‘আজকের ম্যাচের অনুভূতিটাই ভিন্ন ছিল। কতদিন পর মনে হচ্ছে স্বাভাবিক একটি পরিবেশে ম্যাচ খেলেছি। দর্শকরা ম্যাচের শুরুতে চিৎকার করে বলেছে ‘তোমরা কখনই একা নও’।

আর কিছুই পাবার নেই। কখনই মনে হয়নি এই ধরনের অনুভূতি আমার কখনো হবে। ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছিল এবং প্রতিটি দিনই মনে হয়েছে কবে সব স্বাভাবিক হবে।’
স্পার্স বনাম আর্সেনাল ম্যাচটি ছিল পুরোটাই সন ও কেনকে ঘিড়ে।

এই জুটি এবারের মৌসুমে শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের রক্ষনভাগকে আঘাত করে আসছিল, কালও তার ব্যতিক্রম ছিলনা। উত্তর লন্ডনের ডার্বিতে ১৩ মিনিটেই দুর্দান্ত এক গোলে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন দক্ষিণ কোরিয়ান তারকা সন।

বাম দিক থেকে কেনের এগিয়ে দেয়া পাসে অসাধারণ দুর পাল্লার শটে বল জালে জড়ান সন। বিরতির ঠিক আগেই ব্যবধান দ্বিগুন করেন কেন। গিওভানি লো সেলসো থেকে সন বল পেয়ে তা এগিয়ে দেন কেনকে।

পোস্টের খুব কাছে থেকে গানার্স গোলরক্ষক বার্নার্ড লেনোকে পরাস্ত করতে কোন ভুল করেননি এই ইংলিশ অধিনায়ক। আর এতেই নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে স্পার্সদের জয় নিশ্চিত হয়।

সন ও কেন মিলে এখন প্রিমিয়ার লিগে চলতি মৌসুমে ৩১টি গোল করলেন যা যেকোন জুটির জন্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। চেলসির দিদিয়ের দ্রগবা ও ফ্রাংক ল্যাম্পার্ড মিলে করেছিলেন সর্বোচ্চ ৩৬ গোল।

মৌসুমে এখনো পর্যন্ত হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়নি টটেনহ্যামে। লিভারপুলের সাথে ১১ ম্যাচে সমান ২৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা স্পার্সরা তৃতীয় স্থানে থাকা চেলসির থেকে দুই পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে।

ম্যাচ শেষে মরিনহো তার ফরোয়ার্ডদের অলরাউন্ড পারফরমেন্সের প্রশংসা করে বলেছেন, ‘কেন ও সন আজ যেভাবে খেলেছে সেটা শুধুমাত্র গোল করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলনা। পুরোটাই ছিল বিশ্বমানের পারফরমেন্স।

এটা একটি অসাধারণ খেলোয়াড়ের লক্ষণ যারা তাদের দলের জন্য সেরাটা দিতে প্রস্তুত থাকে। আমরা প্রতিদিনই পরিনত হচ্ছি। ম্যানচেস্টার সিটি, চেলসি, আর্সেনালের বিপক্ষে টানা তিনটি ম্যাচ খেলার কথা চিন্তা করাও কঠিন। কিন্তু আমরা খেলেছি এবং একটি ম্যাচও হার মানিনি।’
মৌসুমের ষষ্ঠ পরাজয়ে টেবিলের ১৫তম স্থানে নেমে গেছে আর্সেনাল।